শান্তিগঞ্জে অরক্ষিত হাওর জামখলা, ফসল রক্ষায় শঙ্কিত কৃষকেরা
মোঃ আবু সঈদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ কাগজ-কলমের প্রতিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এখনো অরক্ষিত রয়েছে জামখলা হাওর। হাওরের ফসল রক্ষায় শঙ্কিত কৃষকেরা। জামখলা হাওরের গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলো দৃশ্যমান অবস্থায় অরক্ষিত রয়েছে। উপজেলার কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির উদ্যােগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাওর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামত/সংস্কার/স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৫ ই ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের ৪০ দিন পর আজো বাঁধের কাজের কোন অগ্রগতি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারী) দিনব্যাপী উপজেলার জামখলা হাওরের সবকয়টি পিআইসি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, হাওরের গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার সল্লার দাইড়,ফটইখাড়া,শামবাড়ী ও মাছুখালী এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। ক্লোজারগুলোর এখনো বিন্দুমাত্র কাজ শুরু হয়নি এমনকি কবে কাজ শুরু হবে এ ধরনের কোন প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনকৃত পিআইসিগুলো হলো জামখলা হাওরের ২০,২১,২২,৪৯,৫০ ও ৫১।
পিআইসি গুলোর আওতাভুক্ত কোন ক্লোজারের কাজ দৃশ্যমান হয়নি। চলমান পিআইসি’র বেশিরভাগ অংশ অক্ষত ছিল।
জামখলা হাওরের ২১ নং পিআইসির সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, আগামী কাল থেকে আমাদের ২১নং পিআইসি’র কাজ শুরু হবে।
৫০ নং পিআইসি সভাপতি মকুল মিয়া বলেন, আজ থেকে বাঁধের কাজ শুরু করেছি।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও পাউবো’র উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান মোহন বলেন, উপজেলায় ৬৭ টি প্রকল্প রয়েছে। সবগুলোতে কাজ শুরু হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা কমিটির সদস্য সচিব মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাবিটা স্কীম প্রণয়ন নীতিমালার আওতাধীন ৬৭ টি পিআইসির কাজ চলমান রয়েছে। জামখলা হাওরে স্হায়ী বাঁধ প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে। স্হায়ী বাঁধ প্রকল্পের কাজটি ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারব। সেটি জনগণের উপকারে আসবে। এছাড়া ৬৭ টি প্রকল্পের কাজ নির্বাচনের পূর্বে ৭২-৮০ শতাংশ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বাকি কাজ নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে সম্পন্ন করতে পারব। খাই হাওরে স্হায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চলমান বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে স্হায়ী বাঁধ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এদিকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে হাওরের বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।