শান্তিগঞ্জে পিএফজির ত্রৈ-মাসিক সভা, প্রকল্প শেষ হলেও চলবে পিএফজির কার্যক্রম
মোঃ আবু সঈদ (স্টাফ রিপোর্টার)
📸 ফটো কার্ড
স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা নিরসন এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের (পিএফজি) সদস্যদের ‘শান্তির দূত’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা। তাঁরা বলেছেন, পিএফজি ও ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের (ওয়াইপিএজি) সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করা, পারস্পরিক সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। তাঁদের এ অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে আরও বেশি মানুষ উৎসাহিত হবেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে পিএফজি ও ওয়াইপিএজির ত্রৈমাসিক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সভায় সহযোগিতা করে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্প।
সভায় বক্তারা প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও পিএফজি ও ওয়াইপিএজির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, আগামী জানুয়ারি ২০২৭ সালে এমআইপিএস প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্প শেষ হলেও শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বন্ধ রাখা যাবে না।
শান্তিগঞ্জ পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর সিরাজ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় যৌথ সঞ্চালনা করেন পিস অ্যাম্বাসেডর জিয়াউর রহমান ও ওয়াইপিএজির সমন্বয়কারী মানসুর আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের কুদরত পাশা।
স্বাগত বক্তব্যে কুদরত পাশা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পিএফজির কার্যক্রম কীভাবে সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা নিতে হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অবদান ধরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পিএফজি সদস্য সৈয়দ আলম বলেন, পিএফজি ও ওয়াইপিএজির সব সদস্যকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে সংগঠনের কার্যক্রম চালু রাখা যেতে পারে। এতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বদরুল আলম টিপু বলেন, “পিএফজি আমাদের উদার হতে শিখিয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।”
পিএফজি সদস্য আবু সাইদ বলেন, “আজকের সভাটি শেষ সভা হওয়ায় সবার মনেই কষ্ট রয়েছে। তারপরও আমরা ঘোষণা করছি, পিএফজির কার্যক্রম চালু রাখব।”
পিএফজি সদস্য মতিউর রহমান বলেন, মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা সমাধান ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।
ওয়াইপিএজি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় আরও দুটি মামলার আসামি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কাউকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়ে পিএফজি নেতৃবৃন্দের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সভায় বক্তারা বলেন, পিএফজি একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী, সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনে কাজ করছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা, ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ এবং সম্মিলিত উদ্যোগে সামাজিক সমস্যা সমাধানে সংগঠনটির ভূমিকা রয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন পিএফজির সমন্বয়কারী দোলন রানী তালুকদার, পিএফজি সদস্য জেসমিন আক্তার, জয়ন্ত তালুকদার, আলেয়া বেগম, শিউলী দেবী, নাজমা বেগম, কুহিনুর বেগম, জহুরা বেগম, নাছিমা আক্তার, ওয়াইপিএজি সদস্য খাইরুল আলম, আরশ উদ্দিন, রাহেল আহমদ, শাওন, জাহেদ, হাবিবুর রহমান, ইমরানুল হাসান, মাহবুবুর রহমান, সীমা আক্তার, লিজা আক্তার, নাহিদা আক্তার, সৌরভ খান, মোফাচ্ছেল আলী ও রাহেল আলমসহ অন্য সদস্যরা।
শান্তিগঞ্জে পিএফজির ত্রৈ-মাসিক সভা, প্রকল্প শেষ হলেও চলবে পিএফজির কার্যক্রম
মোঃ আবু সঈদ (স্টাফ রিপোর্টার)
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৯
অডিও সংবাদ
শুনতে প্লে করুন
ছবি:
স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা নিরসন এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের (পিএফজি) সদস্যদের ‘শান্তির দূত’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা। তাঁরা বলেছেন, পিএফজি ও ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের (ওয়াইপিএজি) সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করা, পারস্পরিক সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। তাঁদের এ অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে আরও বেশি মানুষ উৎসাহিত হবেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে পিএফজি ও ওয়াইপিএজির ত্রৈমাসিক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সভায় সহযোগিতা করে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্প।
সভায় বক্তারা প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও পিএফজি ও ওয়াইপিএজির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, আগামী জানুয়ারি ২০২৭ সালে এমআইপিএস প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্প শেষ হলেও শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বন্ধ রাখা যাবে না।
শান্তিগঞ্জ পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর সিরাজ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় যৌথ সঞ্চালনা করেন পিস অ্যাম্বাসেডর জিয়াউর রহমান ও ওয়াইপিএজির সমন্বয়কারী মানসুর আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের কুদরত পাশা।
স্বাগত বক্তব্যে কুদরত পাশা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পিএফজির কার্যক্রম কীভাবে সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা নিতে হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অবদান ধরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পিএফজি সদস্য সৈয়দ আলম বলেন, পিএফজি ও ওয়াইপিএজির সব সদস্যকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে সংগঠনের কার্যক্রম চালু রাখা যেতে পারে। এতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বদরুল আলম টিপু বলেন, “পিএফজি আমাদের উদার হতে শিখিয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।”
পিএফজি সদস্য আবু সাইদ বলেন, “আজকের সভাটি শেষ সভা হওয়ায় সবার মনেই কষ্ট রয়েছে। তারপরও আমরা ঘোষণা করছি, পিএফজির কার্যক্রম চালু রাখব।”
পিএফজি সদস্য মতিউর রহমান বলেন, মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা সমাধান ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।
ওয়াইপিএজি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় আরও দুটি মামলার আসামি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কাউকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়ে পিএফজি নেতৃবৃন্দের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সভায় বক্তারা বলেন, পিএফজি একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী, সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনে কাজ করছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা, ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ এবং সম্মিলিত উদ্যোগে সামাজিক সমস্যা সমাধানে সংগঠনটির ভূমিকা রয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন পিএফজির সমন্বয়কারী দোলন রানী তালুকদার, পিএফজি সদস্য জেসমিন আক্তার, জয়ন্ত তালুকদার, আলেয়া বেগম, শিউলী দেবী, নাজমা বেগম, কুহিনুর বেগম, জহুরা বেগম, নাছিমা আক্তার, ওয়াইপিএজি সদস্য খাইরুল আলম, আরশ উদ্দিন, রাহেল আহমদ, শাওন, জাহেদ, হাবিবুর রহমান, ইমরানুল হাসান, মাহবুবুর রহমান, সীমা আক্তার, লিজা আক্তার, নাহিদা আক্তার, সৌরভ খান, মোফাচ্ছেল আলী ও রাহেল আলমসহ অন্য সদস্যরা।
বিষয়:
১
সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
২
শান্তিগঞ্জে পিএফজির ত্রৈ-মাসিক সভা, প্রকল্প শেষ হলেও চলবে পিএফজির কার্যক্রম
৩
চকরিয়া কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা
৪
অস্ত্র হাতে অ্যাকশনে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, তদন্তের নির্দেশ পুলিশের
৫
ইনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জবির এক শিক্ষার্থীসহ ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় জকসুর শোক
৬
মহেশখালীতে পুলিশের অভিযানে যুবলীগ নেতা কাশেম গ্রেফতার
৭
জীবন বাঁচাতে বাথরুমে আশ্রয় ; সেখানেই নিবে গেল জীবন প্রদীপ
৮
এক মঞ্চে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা: রূপ বদলে যাচ্ছে জামালপুরের গ্রামীণ অর্থনীতির!
৯
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন হাফিজুর
১০
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন হাফিজুর
১
ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা
২
দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ
৩
মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর
৪
গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি
৫
আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার
৬
বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ
৭
মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির
৮
২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!
৯
নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ
১০