পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার আলোচিত ঘটনার পর আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর যুবলীগ নেতা মো. আবুল কাশেম। এবারও তাঁকে গ্রেপ্তার করেছেন মহেশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইকবাল।
উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া চিংড়ি প্রজেক্ট এলাকা থেকে রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পলাতক এই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন এসআই ইকবাল।
এর আগে গত ১১ জুলাই ২০২৬ রাতে কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী বাজার এলাকা থেকে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছিল এসআই ইকবাল। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় এসআই মোহাম্মদ ইকবাল বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মৌলভী শফিউল আলমসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১১ জুলাই রাতে বটতলী বাজারে অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামি আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁকে থানায় নেওয়ার পথে একদল ব্যক্তি পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে হামলা চালায়। এ সময় কনস্টেবল তানভীর হোসেন আহত হন এবং কাশেমকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে কাশেমকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কুতুবজোম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মৌলভী শফিউল আলমও আসামি। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান জানান, যুবলীগ নেতা আবুল কাশেমকে ভোররাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগেও মহেশখালী থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে কুতুবজোম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মৌলভী শফিউল আলমের নেতৃত্বে একদল লোক পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।