চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে কক্সবাজারগামী ও ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে সরব হয়েছেন চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। প্রায় ২০ লাখ মানুষের রেলযাত্রা সহজ করতে চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকেরা।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন চকরিয়া। মাতামুহুরী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী এবং বান্দরবানের লামা-আলীকদম এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ স্টেশন ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি নেই এখানে।
ফলে ঢাকা অভিমুখী যাত্রীদের চকরিয়া থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কক্সবাজার রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
চকরিয়ার গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী মো. সাঈদী আকবর ফয়সাল বলেন, জনস্বার্থে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো রেলপথ উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে মতামত যাচাইয়ের জন্য রেলপথ অধিদপ্তর একটি পরিপত্র প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পুনরায় রেলপথ মন্ত্রী বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রেলপথে যাতায়াত তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। সম্প্রতি মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চালানোর ঘোষণায় চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হলেও চকরিয়া স্টেশনে যাত্রাবিরতির বিষয়ে অনিশ্চয়তা হতাশা বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো বলেন, চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার যাত্রীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। রেল যোগাযোগের সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে। জনস্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন, চকরিয়া থেকে ঢাকায় রেলপথে যেতে চাইলে যাত্রীদের আগে উল্টো দিকে কক্সবাজার যেতে হয়। যে ট্রেন চকরিয়া স্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচল করে, তাতে উঠতেও অন্য শহরে যেতে হচ্ছে। এ ভোগান্তি নিরসনে তিনি পর্যটক এক্সপ্রেস ও মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, চকরিয়া রেলস্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই, বিষয়টি ঠিক। তবে সম্প্রতি চালু করা মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়ে যাত্রী চাহিদা, স্টেশনের গুরুত্ব ও পরিচালনাগত দিক বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের সুবিধা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে।