দুই দশক পর চকরিয়ার মাটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৫:৩৯:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
উন্নয়নের স্বার্থে চকরিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার জোর দাবি
নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজারঃ প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চকরিয়া সফরকে ঘিরে গোটা উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আগামী ১৩ জুনের এই বহুল প্রতীক্ষিত সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ চকরিয়ার দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও উন্নয়নগত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর ঘোষণা আসবে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর থেকে।
কক্সবাজার জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চকরিয়া ভৌগোলিক অবস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও যোগাযোগের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সম্ভাবনাময় এই জনপদ এখনও বহু উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে উন্নয়নের দাবিগুলো।
উপজেলাবাসীর অন্যতম প্রধান দাবি হলো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করা। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করলেও সড়কের সীমাবদ্ধতার কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, পর্যটন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের দাবি কক্সবাজার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চকরিয়ায় স্থাপন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠান পুরো অঞ্চলের শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এছাড়া চকরিয়া (মাতামুহুরী) রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু, রামপুর ১৩২ কেভি গ্রিড স্টেশন দ্রুত চালুকরণ এবং উপজেলা সদরে বিটিসিএলের GPON ইন্টারনেট সেবা চালুর দাবিও স্থানীয়দের মধ্যে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
উপকূলীয় জলপথ ও মৎস্যসম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জনসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
সফরসূচিতে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের আরও কাছে পৌঁছাবে এবং চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, কক্সবাজার দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় জেলা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে পর্যটন খাতের আধুনিকায়ন, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা করছেন জেলার মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, চকরিয়ার উন্নয়ন মানে শুধু একটি উপজেলার উন্নয়ন নয়; বরং কক্সবাজার জেলার অর্থনীতি, পর্যটন, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সামগ্রিক অগ্রগতি। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে চকরিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
“চকরিয়াকে গুরুত্ব দিন, এগিয়ে যাবে কক্সবাজার; সমৃদ্ধ হবে পুরো অঞ্চল”—এটাই আজ উপজেলার মানুষের প্রাণের প্রত্যাশা।

















