শান্তিগঞ্জে অভিভাবকশূন্য প্রশাসন, বিলাসিতায় কার্যক্রম-ভোগান্তিতে জনগণ
- আপডেট সময় : ০৮:৫২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টারঃ
অভিভাবকশূন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত দিয়ে পরিচালিত প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শুধু জটিলতা নয় বিলাসিতারই নামান্তর। এতে সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ ইউএনও-এসিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বশীল কেউ না থাকায় তদারকির অভাবে অন্যান্য দপ্তরগুলো ইচ্ছেমত কাজ করছে বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। নেই সময়ের সদ্ব্যবহার,নেই জবাবদিহিতার দায়ভার। অভিভাবক ছাড়া একটি পরিবারে যেমন নানা প্রতিকূলতার স্বীকার হতে হয়, তেমনি একটি প্রশাসন তার চাইতে কম নয়।
তাছাড়া উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দূরত্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার ইউএনও মোঃ ইসলাম উদ্দিনকে শান্তিগঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি মূলত প্রয়োজনীয় রুটিন মাফিক কার্যক্রমই পরিচালনা করছেন। সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে শান্তিগঞ্জে আসেন৷ এতে অধিকাংশ সময়ই উপজেলা প্রশাসন কার্যত স্থায়ী নেতৃত্বহীন অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা চলতি বছরের ১০ মে থেকে পাঁচ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে দেশের বাহিরে অংশগ্রহণ করছেন। দুটো গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘ ৩ মাস ধরে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনের বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে এসে অনেক সেবাগ্রহীতা প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর,অনুমোদন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। একটি কাজের জন্য একজন সেবা গ্রহিতাকে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিকবার আসতে হচ্ছে। এতে সেবাপ্রত্যাশীরা সময়ের কালক্ষেপণ ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাচ্ছেন না কোন সমাধান। জন্মনিবন্ধনের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন অনেক বিদেশযাত্রী ও শিক্ষার্থীরা। নামজারী ও পর্চা সংশোধন সহ ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থবির থাকায় ভূমি ক্রয়-বিক্রয়ে জটিলতার সম্মূখীন ভূমিদাতারা। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হতে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে ধীরগতি, ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা ও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা। ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রমও অতিরিক্ত দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। জন্ম নিবন্ধনের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনে ও বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারভুক্ত কার্যক্রম ও ভূমি-সংক্রান্ত সেবায় কাঙ্ক্ষিত গতি নেই বলে জানা গেছে। ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নাগরিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই স্বাক্ষর,অনুমোদন কিংবা জরুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য একাধিকবার উপজেলা পরিষদে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। এতে সময় ও অর্থ উভয় দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,গণমাধ্যম কর্মী ও
সচেতন মহলের মতে, একটি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে এই দুটি পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্থায়ী ইউএনও না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত একজন কর্মকর্তার পক্ষে নিজ উপজেলার পাশাপাশি অন্য উপজেলার সার্বিক কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা খুবই কঠিন। জনস্বার্থে দ্রুত শান্তিগঞ্জ উপজেলায় নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সেবা গ্রহণ থেকে শুরু করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদায়ন না হলে নাগরিক ভোগান্তি আরো বাড়বে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জগন্নাথপুর উপজেলার ইউএনও মোঃ ইসলাম উদ্দিন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন-আমাদের রুঠিন মাফিক কাজ চলমান আছে। আমরা আশা করি শীঘ্রই একজন স্থায়ী ইউএনও পাব।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জন্য স্থায়ীভাবে কাউকে মনোনীত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এবিষয়ে অবগত নন বলে জানান।



















