ইবিতে ‘চব্বিশের জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৭:০০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘চব্বিশের জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলাভবনের গগণ হরকরা গ্যালারিতে জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রিন ফোরামের উদ্যোগে এটি আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে গ্রীণ ফোরাম, ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক এ.কে. এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক ও ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় তারা উপস্থাপিত প্রবন্ধের উপর আলোচনা রাখেন।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুজ্জামান। প্রবন্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উদ্ভূত দুর্নীতি, দুঃশাসন ও রাজনৈতিক অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ, যা নজিরবিহীন দমন-পীড়ন ও সহস্রাধিক প্রাণহানির মুখে তৎকালীন শাসনব্যবস্থার পতন ঘটায়। এই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং অবাধ নির্বাচন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, জনবান্ধব পুলিশ, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এক মৌলিক রূপান্তর সাধন।
তিনি আরো বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কমিশন গঠন ও জাতিসংঘের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত শুরু হলেও মব সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে জনগণের প্রাথমিক আশাবাদ (৭১% থেকে কমে ৪২%-এ) উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে জুলাইয়ের শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা ও চেতনাকে বাস্তবায়িত করতে হলে দ্রুততার চেয়ে স্থায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করা, ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী শাসনের অবসান, যা অর্জিত হয়েছে। জুলাইকে জাতির যৌথ স্মৃতি হিসেবে সবাইকে ধারণ করা উচিত। সুশিক্ষা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও নৈতিক মূল্যবোধই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। পাশাপাশি ইনসাফ, নাগরিক অধিকার ও আইনের সমতা নিশ্চিত করতে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে, তরুণদের একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে. এম মতিনুর রহমান বলেন, “২৪-এর জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ভিন্নমাত্রার গণঅভ্যুত্থান, যার কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; বরং সাধারণ শিক্ষার্থী, মেহনতী মানুষ এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া সর্বস্তরের জনতার ঐক্যবদ্ধ আত্মত্যাগের ফসল। এই অর্জনকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী একক মালিকানা দাবি করলে জাতির মাঝে বিভক্তি তৈরি হবে, যা আবারও সুবিধাবাদী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে। তাই ১৯৭১ ও ১৯৭৫ পরবর্তী ইতিহাসের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী মূল চেতনাকে ধারণ করা এবং কোনো স্বার্থান্বেষী মহলকে এই আন্দোলন নিয়ে বাণিজ্য করতে না দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের আশ্রয় না দিয়ে নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

















