ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‎শান্তিগঞ্জে বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে সরকারিভাবে অনুদান প্রদানের জোরালো দাবি জামায়াত এমপির বাসায় হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা উপকূলীয় বদরখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিল আইএসডিই বাংলাদেশ নাইক্ষ্যংছড়ি- মিয়ানমার সীমান্তে মাইন  বিস্ফোরণে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন! ইবির নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ রাকসু ভবনে হামলা ঘিরে রাবিতে উত্তেজনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেন কলকাতায় রাতজুড়ে ধরপাকড়: ১৪ জন আটক, কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

ফকিরহাটে তালের বাম্পার ফলন, গ্রামীণ  অর্থনীতিতে ১ কোটি টাকার বেশি সংযোজন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ৯৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন
শেখ সৈয়দ আলী ফকিরহাট
বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় এ বছর তালের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার ধারে, খেতের আইলে ও বসতভিটায় থাকা তালগাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
1-4608×3466-1-0#

স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ট্রাকভর্তি তাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাটে বর্তমানে ফলন্ত তালগাছের সংখ্যা ১০ হাজার ৫০৪টি। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি কাদি এবং প্রতি কাদিতে গড়ে ১৫টি করে তাল রয়েছে। সে হিসেবে এ বছর উপজেলায় প্রায় ১১ লাখ ২ হাজার ৯২০টি তাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষক পর্যায়ে মাঠ থেকে প্রতি পিস তাল গড়ে ১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদনের এ হিসাব অনুযায়ী ফকিরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ২৯ হাজার ২০০ টাকার সংযোজন হচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ে বাজারে প্রতি পিস তাল ৫ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তালগাছের তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই ফলন হয় এবং অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই প্রতিবছর ভালো আয় পাওয়া যায়। ফলে অনেকেই এখন তালগাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে রোপণে আগ্রহী হচ্ছেন।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ফকিরহাটের তালের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ তাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, তালগাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে গত ১২ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি তালের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া গত বছর সরকারি প্রণোদনা ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও প্রায় ২০০টি তালের চারা রোপণ করা হয়।
ফকিরহাট উপজেলা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “তাল একটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মানবদেহের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও তালগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তালভিত্তিক উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন ঘটানো গেলে ভবিষ্যতে ফকিরহাটে এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফকিরহাটে তালের বাম্পার ফলন, গ্রামীণ  অর্থনীতিতে ১ কোটি টাকার বেশি সংযোজন

আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন
শেখ সৈয়দ আলী ফকিরহাট
বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় এ বছর তালের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার ধারে, খেতের আইলে ও বসতভিটায় থাকা তালগাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
1-4608×3466-1-0#

স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ট্রাকভর্তি তাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাটে বর্তমানে ফলন্ত তালগাছের সংখ্যা ১০ হাজার ৫০৪টি। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি কাদি এবং প্রতি কাদিতে গড়ে ১৫টি করে তাল রয়েছে। সে হিসেবে এ বছর উপজেলায় প্রায় ১১ লাখ ২ হাজার ৯২০টি তাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষক পর্যায়ে মাঠ থেকে প্রতি পিস তাল গড়ে ১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদনের এ হিসাব অনুযায়ী ফকিরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ২৯ হাজার ২০০ টাকার সংযোজন হচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ে বাজারে প্রতি পিস তাল ৫ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তালগাছের তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই ফলন হয় এবং অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই প্রতিবছর ভালো আয় পাওয়া যায়। ফলে অনেকেই এখন তালগাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে রোপণে আগ্রহী হচ্ছেন।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ফকিরহাটের তালের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ তাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, তালগাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে গত ১২ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি তালের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া গত বছর সরকারি প্রণোদনা ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও প্রায় ২০০টি তালের চারা রোপণ করা হয়।
ফকিরহাট উপজেলা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “তাল একটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মানবদেহের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও তালগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তালভিত্তিক উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন ঘটানো গেলে ভবিষ্যতে ফকিরহাটে এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখবে।