ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইনি লড়াইয়ে বিজয়ী হলেন থালাপতি : তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী র‌্যাব-১৫-এর মানবিক উদ্যোগ: বন্যাদুর্গত ২৫০ পরিবারের পাশে সৌজন্য উপহার নিয়ে র‌্যাব নিহত নিরঞ্জন দাসের পরিবারের পাশে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল। শিক্ষক: মানুষ গড়ার শ্রেষ্ঠ কারিগর উখিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবা ও মোটরসাইকেল জব্দ পেকুয়ায় বন্যার্তদের পাশে ১১ বিজিবি, ৫১০ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৯০ পরিবারের পাশে ১১ বিজিবি দিনে ব্যাংকের কর্মী, রাতে চায়ের দোকান—ক্লান্তিকে হার মানিয়ে এগিয়ে চলা এক মানুষের গল্প ইবি প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা

ইবি প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

আগামী পহেলা আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলনের আগমন উপলক্ষে জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলে একই আদলে জুলাই ফলক তৈরির পরিকল্পনা করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। যেটি ডামি গেটের অনুরূপ হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান ।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মতিনুর রহমান

উপাচর্য বলেন, “জুলাই গ্রাফিতি ও স্মৃতি অপসারণের বিষয়ে যে প্রচার চলছে তা বিভ্রান্তিকর। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নির্দেশনা নেই। জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা শব্দটি অযাচিত ও অপকৌশল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণেই কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জুলাই স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই সংগ্রহশালা পুনরায় চালু, প্রধান ফটকের জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণ এবং একই আদলে নতুন ডামি গেট নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য জুলাইয়ের স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা। এ জন্য স্মৃতিফলক ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণেই কাজ করছে। জুলাই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন ও গ্রাফিতি মুছে ফেলে নতুন করে রং করার উদ্যোগের বিষয়ে মতামত জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে দুই দফায় অফিসে মিটিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলো। এসময় জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলে তা সংরক্ষণের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন। তবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে শাখা বৈষম্যরিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তি। এসময় প্রক্টরিয়াল বডির এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিল না শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। তবে পরে বিকাল ৩টায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সঙ্গে আলোচনা সভায় বসে তারা। এসময় তারা জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

এ বিষয়ে ছাত্রশক্তি ইবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, “শুধু ছাত্র সংগঠনগুলোই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্টেকহোল্ডার না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন শিক্ষার্থীরা হচ্ছে সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার। আমরা চাই না কোনো ইন্টারনাল ছাত্র সংগঠনের ইন্টারনাল কোনো বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জুলাইয়ের যে স্পিরিট সেটা ভূলুণ্ঠিত হোক। জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য জুলাইয়ের সম্মুখ সারির শক্তিদেরকে তারা ডাকেনি। জুলাই মাসে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা এটা পরবর্তী টার্মের কোনো অপপ্রয়াস কি না সেটা আসলে আমরা বুঝতে পারছি না।”

শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম বলেন, “জুলাইয়ের যে স্মৃতি সেগুলো যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রং করা যায়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তা সংলগ্ন প্রাচীর গুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে জুলাইয়ের গ্রাফিতি এবং লেখাগুলো প্রদর্শন করা যায়। ”

শাখা বৈছাআ’র আহ্বায়ক এসএম সুইট বলেন, “জুলাই মাসে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা যাবে না। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি আগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর প্রশাসন জুলাই স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রধান ফটকে রং করতে পারে।”

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, শহীদদের রক্তস্নাত জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন ও দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার পক্ষে আমরা কোনোভাবেই মত দিতে পারি না। জুলাই বিপ্লবের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্র চলছে। জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলার অপচেষ্টা তারই অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, সার্টিফিকেট উত্তোলনে ভোগান্তি, ইকসু-সহ অসংখ্য বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই‌‌। অথচ জুলাই স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর এটা খুবই হতাশাজনক।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের যেভাবে কাজ করবে সেটার সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করেছি। প্রশাসন বলেছে জুলাইয়ের যে স্মৃতি রয়েছে সেগুলো অন্য একটা জায়গায় সংরক্ষণ করা হবে। আমরা দাবি জানিয়েছি প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের যে স্লোগান লেখা আছে সেগুলো মুছে ফেলতে হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইবি প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০৮:১১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

আগামী পহেলা আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলনের আগমন উপলক্ষে জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলে একই আদলে জুলাই ফলক তৈরির পরিকল্পনা করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। যেটি ডামি গেটের অনুরূপ হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান ।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মতিনুর রহমান

উপাচর্য বলেন, “জুলাই গ্রাফিতি ও স্মৃতি অপসারণের বিষয়ে যে প্রচার চলছে তা বিভ্রান্তিকর। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নির্দেশনা নেই। জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা শব্দটি অযাচিত ও অপকৌশল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণেই কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জুলাই স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই সংগ্রহশালা পুনরায় চালু, প্রধান ফটকের জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণ এবং একই আদলে নতুন ডামি গেট নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য জুলাইয়ের স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা। এ জন্য স্মৃতিফলক ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণেই কাজ করছে। জুলাই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন ও গ্রাফিতি মুছে ফেলে নতুন করে রং করার উদ্যোগের বিষয়ে মতামত জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে দুই দফায় অফিসে মিটিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলো। এসময় জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলে তা সংরক্ষণের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন। তবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে শাখা বৈষম্যরিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তি। এসময় প্রক্টরিয়াল বডির এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিল না শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। তবে পরে বিকাল ৩টায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সঙ্গে আলোচনা সভায় বসে তারা। এসময় তারা জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

এ বিষয়ে ছাত্রশক্তি ইবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, “শুধু ছাত্র সংগঠনগুলোই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্টেকহোল্ডার না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন শিক্ষার্থীরা হচ্ছে সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার। আমরা চাই না কোনো ইন্টারনাল ছাত্র সংগঠনের ইন্টারনাল কোনো বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জুলাইয়ের যে স্পিরিট সেটা ভূলুণ্ঠিত হোক। জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য জুলাইয়ের সম্মুখ সারির শক্তিদেরকে তারা ডাকেনি। জুলাই মাসে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা এটা পরবর্তী টার্মের কোনো অপপ্রয়াস কি না সেটা আসলে আমরা বুঝতে পারছি না।”

শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম বলেন, “জুলাইয়ের যে স্মৃতি সেগুলো যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রং করা যায়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তা সংলগ্ন প্রাচীর গুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে জুলাইয়ের গ্রাফিতি এবং লেখাগুলো প্রদর্শন করা যায়। ”

শাখা বৈছাআ’র আহ্বায়ক এসএম সুইট বলেন, “জুলাই মাসে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা যাবে না। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি আগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর প্রশাসন জুলাই স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রধান ফটকে রং করতে পারে।”

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, শহীদদের রক্তস্নাত জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন ও দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার পক্ষে আমরা কোনোভাবেই মত দিতে পারি না। জুলাই বিপ্লবের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্র চলছে। জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলার অপচেষ্টা তারই অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, সার্টিফিকেট উত্তোলনে ভোগান্তি, ইকসু-সহ অসংখ্য বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই‌‌। অথচ জুলাই স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর এটা খুবই হতাশাজনক।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের যেভাবে কাজ করবে সেটার সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করেছি। প্রশাসন বলেছে জুলাইয়ের যে স্মৃতি রয়েছে সেগুলো অন্য একটা জায়গায় সংরক্ষণ করা হবে। আমরা দাবি জানিয়েছি প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের যে স্লোগান লেখা আছে সেগুলো মুছে ফেলতে হবে।”