রক্ষণাবেক্ষণের নামে লাখ টাকা ব্যয়: সরকারি বাসভবন ছাড়লেন ইসলামপুরের ইউএনও নাজমুল হুসাইন
- আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ‘পরিত্যক্ত’ ও ‘কনডেমড’ ঘোষিত সরকারি বাসভবনে সংস্কারকাজ পরিচালনা এবং সেখানে বসবাসকে কেন্দ্র করে আলোচিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন অবশেষে ইসলামপুর থেকে বিদায় ঘন্টা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,নিলামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি বাসভবনে তার বসবাস এবং সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে ইউএনও নাজমুল হুসাইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী,তারা কখনো ‘রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ’-এর কর্মী, কখনো একটি এতিমখানার জমিদাতা ও আজীবন সদস্য, আবার কখনো ‘ক্লিন আপ ইসলামপুর টিম’ ও ‘দেয়ালের পিঠ’ নামের মানবিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ১ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে (স্মারক নং-৫৪৫) ইসলামপুর উপজেলার পাঁচটি সরকারি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হেলেনা পারভিন স্বাক্ষরিত ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের এক পত্রে ভবনগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নিলামের তালিকাভুক্ত ভবনের মধ্যে ছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবন,উপজেলা চেয়ারম্যানের কোয়ার্টার এবং একটি ডরমিটরি ভবন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,এসব ভবনের প্রাক্কলিত মূল্য যথাক্রমে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৪২ টাকা ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৪২ টাকা এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবনগুলো দ্রুত নিলাম বা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে ইউএনও নাজমুল হুসাইন ঝুঁকিপূর্ণ ওই সরকারি বাসভবনে সংস্কারকাজ পরিচালনা করে সেখানে বসবাস অব্যাহত রাখেন।
সম্প্রতি তার বদলির আদেশ জারি হলে তিনি ইসলামপুর ত্যাগ করবেন। তবে তার বিদায়ের পরও আলোচিত ওই পরিত্যক্ত ভবনে এতদিন বসবাসের সরকারি ভাড়ার টাকা কোন খাদে জমা হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা কিংবা ভবনটি অপসারণ বা নিলাম বিষয়ে এখনো কার্যক্রমের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে ইসলামপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আবু সাঈদ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য এখনো কোনো আবেদন বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
























