হুমকির মুখে প্রাকৃতিক জলাধার ও পরিবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রেইন ক্লাবের পূর্ব পাশে কমিশনার পাড়া ও রাজধানী পাড়া সংযোগ সড়ক সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমি দখল করে মাছ চাষ প্রকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে একটি প্রভাবশালী চক্র, এমনটি অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১ নম্বর খাস খতিয়ানের বিএস দাগ নম্বর ৪২৫ ও ৭২৯- যাহার প্রস্ত (BS সিট অনুসারে ১৫০ ফিট) এর অন্তর্ভুক্ত সরকারি জমিতে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে এবং চারপাশে বাঁধ নির্মাণ করে ভূমির প্রকৃতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা নিজেদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাবি তুলে কৌশলে সরকারি খাস জমিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলছে। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমিকে মাছ চাষ প্রকল্পের আওতায় এনে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, বিষয়টি শুধু সরকারি সম্পত্তি দখলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এলাকার পরিবেশ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, খাস জমি ও প্রাকৃতিক জলাধার দখল হয়ে গেলে এলাকার স্বাভাবিক পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে আশপাশের বসতবাড়ি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
স্থানীয়রা আরও জানান, বর্তমানে এই উন্মুক্ত জলাধার ও নদীসদৃশ জলপথ এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন এলাকার শিশু-কিশোররা এখানে সাঁতার কাটে, গোসল করে এবং অবসর সময় কাটায়। দখল ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জলাশয়টি ব্যক্তিগত প্রকল্পে রূপান্তরিত হলে সাধারণ মানুষ এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।
এছাড়া প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট বা দখল হয়ে গেলে এলাকার উন্মুক্ত পরিবেশ বিনষ্ট হবে, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হবে এবং দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক জলাশয় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে স্থানীয় প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমি প্রশাসনের তহসিল অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া সরকারি খাস জমিতে প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে সরকারি খাস জমি উদ্ধার, অবৈধ বাঁধ অপসারণ, ভূমির প্রকৃতি পরিবর্তনের কাজ বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সরকারি সম্পত্তির পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।