কনডেমড ভবনে বিলাসীতা:ইসলামপুরে ইউএনও’র বেপরোয়া কাণ্ডে ফুঁসছে সচেতন মহল
রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ
জামালপুরের ইসলামপুরে সরকারী পরিত্যক্ত ভবন নিয়ে খাম খেয়ালী ও বিলাসীতা করছেন ইসলামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইন। ইসলামপুরে ৫টি পরিত্যক্ত ভবন নিলামে বিক্রয়ের জন্য প্রশাসনিক নির্দেশনা থাকলেও ইসলামপুরের ইউএনও তাহা উপেক্ষা করছেন। তিনি পরিত্যক্ত ভবনে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলাসী সংস্কার কাজও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে,জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ১ নভেম্বর২০২৪ তারিখে স্মারক নং ৫৪৫ মূলে পাঁচটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হেলেনা পারভিন স্বাক্ষরিত পত্রে গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ওই পরিত্যক্ত ভবনগুলো নিলামে বিক্রির সুস্পষ্ট নির্দেশ প্ররদান করেন। অথচ ইসলামপুরে ইউএনও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে লোক দেখানো সংস্কারের নামে সরকারী লাখ লাখ টাকা অপচয় পূর্বক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি নিজেই ব্যবহার করছেন। এতে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন চলছে।
উল্লেখ্য পূর্বঘোষিত পরিত্যক্ত পাঁচটি ভবনের মধ্যে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন (প্রাক্কলিত মূল্য ৩,৫১,৩৪২ টাকা), উপজেলা চেয়ারম্যান কোয়ার্টার (প্রাক্কলিত মুল্য ৩,৩৫,২৪২ টাকা) ও ডরমিটরি (প্রাক্কলিত মুল্য ১,৫৭,৬২৪ টাকা) নিলামে বিক্রির প্রশাসনিক অনুমতি প্রদান করা হয়। মন্ত্রণালয়ের আদেশে ভবনগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা থাকলেও রহস্য জনক কারণে তা কার্যকর করা হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন জানান,”আপনার উল্লেখিত পরিত্যক্ত ভবনের স্মারক নম্বরটি সঠিক কি না বা এ বিষয়ে কী নির্দেশনা আছে,তা খতিয়ে দেখতে হবে।”
ইসলামপুর পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম আবু সাঈদ বলেন,”ভবনটি যে দাপ্তরিক ভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তা আমাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। উপজেলা প্রশাসন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন করা হলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ কেটে দেবো।”
জামালপুরের বিজ্ঞ আইনজীবি নজরুল ইসলাম জানান, ”কোনো স্থাপনা সরকারী ভাবে পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পর সেখানে পূণঃসংস্কারের নামে নতুন করে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সরকারী বিধি বহির্ভূত ও অপরাধের শামিল।
ইসলামপুরে মনিরুজ্জামান জানান,একজন পদস্থ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আরাম আয়েশের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও লোপাটের চেষ্টা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই নজিরবিহীন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”