রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুরঃ
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা দুরমুঠ ইউনিয়নের কুলিয়া এলাকায় বহুবিদ অপকর্মের হোতা এবং জনসমাজে শফিকুল ইসলাম আলম। অবশেষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে অন্তরীণ হয়েছেন। সুদীর্ঘকাল ধরিয়া কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস প্রদানপূর্বক অর্থ লুট, ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ প্রতারণা এবং নানাবিধ ছদ্মবেশ ধারণ করিয়া সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারাণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ইসলামপুর থানা পুলিশ তাহাকে গ্রেফতার করিয়াছে।
তদন্তসূত্রে প্রতীয়মান হয় যে,অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম আলম সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় নিয়োগের প্রলোভন দেখাইয়া বেকার যুবক ও তাহাদের অসহায় পরিবারবর্গের নিকট হইতে প্রায় ১২লক্ষ টাকা মুদ্রা হাতিয়া লইয়াছেন। ধৃত এই প্রতারক অত্যন্ত সুচতুরভাবে নিজেকে শরীরচর্চা শিক্ষক,ক্রীড়া সংগঠক,ফুটবল রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের লব্ধপ্রতিষ্ঠ ব্যক্তি এমনকি মানবাধিকার সংস্থার জেলা শাখার প্রাক্তন পদাধিকারী হিসেবে পরিচয় প্রদান করিতেন। বিবিধ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবরণে আবৃত হইয়া তিনি সাধারণের আস্থা অর্জন করিতেন এবং পরবর্তীতে সেই বিশ্বাসের সুযোগ লইয়া অগণিত পরিবারকে নিঃস্ব করিয়াছেন।
অভিযোগ রহিয়াছে যে,শফিকুল ইসলাম আলম একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির তনয় হইবার সুবাদে স্বীয় প্রভাব খাটাইয়া দীর্ঘকাল যাবত স্বীয় অপকর্ম ঢাকিয়া রাখিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। তাহার এই আকস্মিক গ্রেপ্তারে স্থানীয় জনপদ একপ্রকার শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি হইতে মুক্তি পাইয়াছে। ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ,এই পাষণ্ড প্রতারকের কারণে বহু পরিবার আজ ঋণের ভারে জর্জরিত ও পথের ভিখারিতে পরিণত হইয়াছে।
পুলিশ প্রশাসন এই ধূর্ত প্রতারকের সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত খতিয়ে দেখিতেছেন। তাহার এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো সহযোগী বা অশুভ শক্তির মদদ রহিয়াছে কি না, তাহাও বিশদভাবে তদন্ত করা হইতেছে।
সচেতন মহলের দাবি,এই ঘৃণ্য অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক,যাহাতে ভবিষ্যতে অন্য কেহই এইরূপ স্পর্ধা প্রদর্শন করিতে সাহসী না হয়।