সাঈদী আকবর ফয়সালঃ
ঈদুল ফিতরের আগে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৯টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং ৫টি মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় এ ভাতা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন-বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারের এ উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ। এর আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করা হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে ঈদুল ফিতরের আগেই পাইলট স্কিমের আওতায় চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ১৯টি মসজিদ এবং পাঁচটি অন্যান্য উপাসনালয়কে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
পাইলট স্কিম অনুযায়ী, মসজিদের ইমামরা মাসিক ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। এছাড়া মন্দিরের পুরোহিতদের ৫ হাজার টাকা, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষদের ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষদের ৩ হাজার টাকা এবং গির্জার যাজকদের ৫ হাজার ও সহকারী যাজকদের ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়া হবে।
চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে— খুটাখালী পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, ডুলাহাজারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ফাঁসিয়াখালী হাজিয়ান আলীপাড়া জামে মসজিদ, চিরিংগা চরনদ্বীপ তুলাতলী পাড়া জামে মসজিদ, লক্ষ্যারচর জিদ্দাবাজার বায়তুন নূর জামে মসজিদ, বমুবিলছড়ি পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, কাকারা তাকওয়া জামে মসজিদ, মানিকপুর-সুরাজপুর দক্ষিণ মানিকপুর মাতব্বরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বরইতলী পহরচাদা সরদারপাড়া জামে মসজিদ, হারবাং উলুমে দ্বানিয়া জামে মসজিদ, কৈয়ারবিল ছমনখাতুন বাপেরপাড়া বায়তুচ্ছালাম জামে মসজিদ, কোণাখালী মধ্য কোণাখালী খাতুন বাপেরপাড়া আহমদিয়া জামে মসজিদ, পশ্চিম বড় ভেওলা কালু সিকদার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ভেওলা মানিকচর বহদ্দারকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বদরখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ঢেমুশিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদ, শাহারবিল রামপুর স্টেশন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং চকরিয়া পৌরসভার উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।
এছাড়া অন্যান্য উপাসনালয়ের মধ্যে রয়েছে কাকারা ইউনিয়নের রুদ্রপল্লী সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দির, বরইতলী কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালী মন্দির, হারবাং রাখাইন বৌদ্ধ বিহার, মানিকপুর বিজয়নন্দ বৌদ্ধ বিহার এবং মেমোরিয়াল ব্যাপ্টিস্ট মণ্ডলী গির্জা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চকরিয়া সুপারভাইজার মাওলানা আমির হোসেন বলেন, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকার ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতারা মাসিক সম্মানী পাবেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এ উদ্যোগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।