ঢাকাবুধবার , ৪ মার্চ ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. বিশেষ সংবাদ
  3. সারা বাংলা

‎ ‎ফসল রক্ষা বাঁধে নীরব বাণিজ্য, প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দূর্নীতির দৃশ্যমান চিত্র

প্রতিবেদক
News Desk
৪ মার্চ ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!


‎স্টাফ রিপোর্টারঃ

‎সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাওর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামত ও সংস্কার স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য পিআইসি গঠন করা হয়।

‎সরেজমিন হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনকালে এ ব্যাপক অনিয়ম,দূর্নীতি ও পিআইসি গঠনে রদবদলের চিত্রটি চোখে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যের সাথে মাঠের তথ্যের মিল নাই। এখনো প্রত্যেকটি হাওরে মাটির কাজ ও কম্পেকশন চলমান আছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলো টেকসই না হওয়ায় আগাম বন্যা মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ। পাউবো ও প্রশাসন পরিকল্পনা করে হাওরের দুর্নীতি করছে। উক্ত পিআইসি কমিটি গঠনেও ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি পরিলক্ষিত হয়। হাওরে জমি নাই এমন পরিবার, বাপ-ছেলে, ভাইয়ে-ভাইয়ে, চাচা-ভাতিজা নিয়ে একই পরিবারের লোকদের সমন্বয়ে একাধিক পিআইসি গঠন করা হয়েছে। অক্ষত বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ, অপ্রয়োজনীয় পিআইসি গ্রহণ, পুরাতন বাঁধের মাটি মেশিন দিয়ে কুড়ে জাগার মাটি জাগাত ফেলে পরিপাটি করে বিল উত্তোলন করা হচ্ছে। বেশীরভাগ মাঠেই সাইনবোর্ডবিহীন ভাড়াটিয়া পিআইসির তথ্য পাওয়া যায়। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড গভীর পরিকল্পনা করে শুরু থেকেই নিজস্ব লোকদের পিআইসি দিয়েছে। চুক্তির টাকা আগে হাতে না পেয়ে বিল প্রদানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গড়িমসি পরিলক্ষিত হচ্ছে। যাদের দিচ্ছে তারা তাদের নিজস্ব লোক মনে হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রথায় ফেরত যাইতে এমন কৌশল অবলম্বন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থায়ী হাওর রক্ষা বাঁধে আরো ভয়ংকর তথ্য বের হয়ে আসছে। সাধারণ মানুষ জানতে পারেনা শত কোটি টাকার প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সুনামগঞ্জ চলছে। এখানেও মারাত্বক অনিয়ম, অব্যস্থাপনা ও দুর্নীতি চলছে। ফসল রক্ষা বাঁধের নামে হাওরের ফসলি জমি, হাওরের কান্দা সব কেটে শেষ। এটা কৃষকদের সাথে প্রতারণা, শুভংকরের ফাঁকি।

‎জানা যায়,২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৭ টি হাওরে ৬৭ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তন্মধ্যে কাউয়াজুরী হাওরে ২১ টি, দেখার হাওরে ১৪ টি, খাই হাওরে ১৬ টি, জামখলা হাওরে ৬ টি, কাঁচিভাঙ্গা হাওরে ৪ টি, সাংহাই হাওরে ৩ টি ও ছাইল্লানি হাওরে ৩ টি প্রকল্পের কাজ গ্রহণ করা হয়েছে।  সরকার হাওর রক্ষা বাঁধ তৈরি করতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ১২ কোটি টাকার উপরে বরাদ্দ প্রদান করে কিন্তু দুঃখের বিষয় ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের নির্ধারিত মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারী শেষ হয়ে গেলেও সমাপ্ত হয়নি কোন হাওরের কাজ। এখনো চোখে পড়ে  মাটিকাটার কাজের অসমাপ্ত চিত্র।

‎হাওর বাঁচাও আন্দোলন শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের সরেজমিনে পরিদর্শনে প্রায় ৪০ টি পিআইসিতে অপ্রয়োজনীয়, অক্ষত ও অনিয়মের চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়।
‎অক্ষত বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এমন পিআইসির সংখ্যা ২১ টি এবং জালিয়াতি পরিলক্ষিত হয় ৩টি পিআইসিতে। দেখলে মনে হয় হরিলুটে অংশ নিয়েছে পিআইসি কমিটি আর সেই হরিলুটের আয়োজক উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। হিসাবের খাতায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস মিলাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ধারাবাহিকভাবে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো হলো সাংহাই হাওরের ১ নং পিআইসি যাহা বিগত বছরেও অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি উঠানো হয়। বিশাল একটি গ্রামঘেরা প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবছর দ্বিগুণ বরাদ্দ প্রদান করে। একই চিত্র কাউয়াজুরী হাওরের ৫,১৫, ৩৯ ও ৪৪ নং পিআইসিতে যাহা পুরোটাই গ্রামের চলাচলের রাস্তা ও কাঁচিভাঙ্গা হাওরের ৪৫ নং আংশিক গ্রাম রক্ষা বাঁধ। কাউয়াজুরী হাওরের ১০ নং পিআইসি নতুন উদ্ভাবন হয়েছে যাহা প্রয়োজন নেই। বাপ-ছেলের কমিটি খাই হাওরের ৫৮ নং পিআইসিতে ব্যাপক জালিয়াতি পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া ৯,১৭ ও ৫০ নং পিআইসিতে পুকুর পাড়, এলজিইডির রাস্তা ও বাড়ীর সীমানায় প্রকল্প তৈরির জালিয়াতির চিত্র ফুটে উঠে। সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ছিল সাংহাই হাওরের পিআইসি নং-৩, জামখলা হাওরের ২১,
‎খাই হাওরের ২৩ ও ২৯ কাউয়াজুরী হাওরের ৩৮,৪০,৪৩,৫২,৫৫,৬০ ও ৬১। ছাইল্লানি হাওরের ৬৪,৬৫ ও ৬৬ নং পিআইসি অপ্রয়োজনীয় বলে বিগত বছরেও আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছিল।

‎সিন্ডিকেট বানিজ্যের স্বীকার উপজেলার ৩৫ টি পিআইসি। এগুলো হলো পিআইসি নং- ৪,৫,৬,৭,৮,৯,১০,১১,১২,১৩,১৪,১৫,২৯,৩৩,৩৪,৩৮,৩৯, ৪০,৪৩,৪৪,৪৯,৫১, ৫২,৫৩, ৫৪, ৫৫,৫৬,৫৭,৫৮,৫৯,৬০,৬১,৬২,৬৪ ও ৬৬।

‎কমিটি গঠনে ২৪ টিতে অনিয়ম পাওয়া যায়। খাই হাওরের ৫৮ নং পিআইসিতে দেখা যায় বাপ-ছেলে একই কমিটিতে। কমিটির সভাপতি নাহিদ হাসান। তাহার পিতা-মোঃ সাইফুর রহমান এবং আপন চাচা আলাউর রহমানসহ একই পরিবারের তিন জন সদস্য। ৫৫ নং পিআইসির সেক্রেটারী আফজল হোসাইন এর পিতা মোঃ শফিক মিয়া ৫৩, ৫৪ ও  ৬৬ নং পিআইসির সদস্য ও চাচা মোঃ ডালিম মিয়া ৫৪ নং পিআইসির সেক্রেটারি এবং পিতা মোঃ শফিক মিয়া ঐ কমিটির সদস্য। তাছাড়া ২৪ নং পিআইসির সভাপতি আকলুয়াছ মিয়াকে সেক্রেটারি করে সাবেক সেক্রেটারী জুনেদকে বাদ দেওয়া হয়। পিআইসি নং ৬২ এর সেক্রেটারি  আনিছ আলী ও আপন ভাই মাহমুদ আলী একই কমিটির সদস্য। ৪০ ও  ৩৪ নং পিআইসির পুরো কমিটি পরিবর্তন করে নিজেদের চুক্তিবদ্ধ লোককে মনোনীত করা হয়। ৪০ নং পিআইসির সদস্য আলমগীর হোসেন, জিতু খান, কামরুল ইসলাম ও মকবুল খানকে নিয়ে ৪৩ নং পিআইসি গঠন করা হয়। তাছাড়া পিআইসি নং ১, ২, ১৩, ১৪, ২৯, ৩১,৩৬,৪৫, ৫০, ৬১ ও ৬৪ এর কমিটি রদবদলের প্রমাণ পাওয়া যায়।

‎বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়,উক্ত কমিটিগুলো রদবদলে ও সিন্ডিকেট বানিজ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমন্বয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী (এস ও) মোঃ মনিরুজ্জামান মোহন এর নাম সম্পৃক্ত পাওয়া যায়।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী (এস ও) মোঃ মনিরুজ্জামান মোহন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমাদের বাঁধের কাজ প্রায় সম্পন্ন। কারো অভিযোগ থাকলে পিআইসি এর নামসহ লিখিত অভিযোগ দিলে তা খতিয়ে দেখব।

আরও পড়ুন

ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মার্ক রুটে

৩০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েলে মিসাইল ছুড়লো ইরান

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান

জাবি ক্যাম্পাসে ঋতুরাজের রঙিন আসর

জাবির খোলা আকাশের নিচে সম্প্রীতির ইফতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে ইরানকে পুর্ণ সমর্থন চীনের

কুবির ইংরেজি বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কুবিতে শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন

আর্থিক অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পাশে জবি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ইরানের মিসাইল হামলা

কুয়েতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

আল আকসায় তারাবি বন্ধ করলো ইসরাইল, হুঁশিয়ারি খতিবের