ইত্তেজা হোসাইন, জাবি প্রতিনিধি :
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক-এ চলাচলকারী যানবাহনের বিকট হর্নের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)-এর প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট থেকে প্রান্তিক গেট পর্যন্ত অবস্থিত নারীদের হলগুলোতে দিন-রাত অবিরাম হর্নের শব্দে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের উচ্চস্বরে হর্ন বাজানো যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এতে পড়াশোনা, বিশ্রাম এমনকি স্বাভাবিক জীবনযাপনও বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তারামন বিবি হল-এর আবাসিক শিক্ষার্থী রেবিনা খাতুন বলেন, “শব্দদূষণ এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। রুমে বসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতেও পারছি না। অতিরিক্ত শব্দে মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
রোকেয়া হল-এর আবাসিক শিক্ষার্থী শামীমা খাতুন বলেন, “দিন-রাত গাড়ির তীব্র শব্দ আমাদের সহ্যসীমার বাইরে চলে গেছে। দ্রুত প্রশাসন ও জাকসুর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) এজিএস আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা বলেন, “ছাত্রী হলগুলোর সাউন্ড সমস্যার বিষয়টি আমরা জানি। হাইওয়ে থেকে ৩০ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ভবন নির্মাণের পরামর্শ থাকলেও তা মানা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— এমএইচ হল থেকে বিশমাইল পর্যন্ত এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা, সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, দুই সারি দেবদারু গাছ রোপণ এবং হাইওয়ে থানার মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট এলাকায় ‘হর্ন নিষিদ্ধ’ সাইনবোর্ড স্থাপন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে শান্ত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।