ঢাকাসোমবার , ২ মার্চ ২০২৬
  1. সর্বশেষ

জাবি ক্যাম্পাসে ঋতুরাজের রঙিন আসর

প্রতিবেদক
News Desk
৩ মার্চ ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

ইত্তেজা হোসাইন, জাবি প্রতিনিধিঃ

সবুজে ঘেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঋতুরাজ বসন্তে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। ফাগুনের উষ্ণ হাওয়া ছুঁয়ে গেলে লাল-কমলার রঙে জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ এই প্রাকৃতিক ক্যাম্পাস। শীতের নিস্তেজতা পেছনে ফেলে বসন্তকে বরণ করে নিতে গাছে গাছে ফুটে ওঠে রঙিন পলাশ—যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব।

ডেইরি গেইট থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক, নারীদের হলপাড়ার প্রবেশপথ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন অমর একুশে ভাস্কর্য-এর পাশ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন রাস্তা, পরিবহন চত্বর, চৌরঙ্গী—যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই পলাশের দহনরাঙা সৌন্দর্য। সবুজের বুক চিরে লালের এমন উচ্ছ্বাস যেন প্রকৃতির এক অনন্য রূপান্তর। বিকেলের নরম আলোয় এই রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে; লেকের জলে তার প্রতিচ্ছবি আঁকে আগুনরেখার মতো দৃশ্য।

ফাগুন মানেই নতুন শুরু, নতুন স্বপ্ন। পলাশের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বসন্তস্নাত ক্যাম্পাসের রঙিন মুহূর্ত। এই প্রকৃতি মনকে হালকা করে দেয়, এনে দেয় প্রশান্তি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বলেন, “বসন্ত এলে বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রকৃতির এক অনুপম উৎসবে রূপ নেয়। চারদিকে গাছে গাছে রঙিন ফুলের সমারোহ চোখ জুড়িয়ে দেয়, মন ভরিয়ে তোলে। পুরো ক্যাম্পাস তখন মনে হয় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের এক মোহনীয় লীলাভূমি।”

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিম হোসেন বলেন,
“বসন্ত এলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার ৭০০ একরের সবুজ ক্যাম্পাসে নতুন রূপে সেজে ওঠে। কচি পাতা, কৃষ্ণচূড়া, পলাশ ও সোনালুর রঙিন সমারোহ, পাখির কূজন ও প্রজাপতির উড়াউড়িতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে শান্ত, স্নিগ্ধ ও মনোমুগ্ধকর।”

শীতের অতিথি পাখির কোলাহল যেমন এই ক্যাম্পাসে প্রাণের স্পন্দন আনে, তেমনি বসন্তে পলাশ গাছগুলো তাকে দেয় আলাদা পরিচয়। প্রকৃতি ও শিক্ষার এই সহাবস্থানই জাবিকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বতন্ত্র করে তোলে।

ক্যাম্পাসের এই অপরূপ সৌন্দর্য শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয়, দূরদূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মনও গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়।

এমনই এক দর্শনার্থী মোনাইম আলী অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি এর আগেও এখানে এসেছি। বাংলাদেশের ছয় ঋতুর যে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য—তা সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করা যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এলে। শীতের হিমেল আবহাওয়া ও অতিথি পাখির কলরব, বর্ষার ঝুম বৃষ্টিতে সবুজে ধোয়া প্রকৃতি, কিংবা বসন্তের রঙিন পলাশ-শিমুলে সেজে ওঠা ক্যাম্পাস—সব মিলিয়ে এই জায়গাটি আমাদের মনকে বারবার পুলকিত করে।”

এভাবেই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন রূপে ধরা দিয়ে ক্যাম্পাসটি হয়ে ওঠে প্রকৃতিপ্রেমীদের এক অনন্য আকর্ষণ।

তবে ফাগুনের এই সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী। কয়েকদিন পরই ঝরে যাবে পাপড়ি, বদলে যাবে দৃশ্যপট। তবু স্মৃতিতে থেকে যাবে লাল রঙে ভেজা এই দিনগুলো। বারবার মনে করিয়ে দেবে বসন্ত মানেই নবজাগরণ, আর জাবি মানেই প্রকৃতির সঙ্গে হৃদয়ের এক গভীর সংলাপ।

আরও পড়ুন

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ইরানের মিসাইল হামলা

কুয়েতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

আল আকসায় তারাবি বন্ধ করলো ইসরাইল, হুঁশিয়ারি খতিবের

সংসদে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণদানে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

একের পর এক মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইরান, ইসরায়েলজুড়ে বাজছে সাইরেন

কুবিতে “ভাই-বন্ধু সোসাইটি” এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

রাউজান প্রেস ক্লাবের আমৃত্যু সভাপতি সরোয়ার উদ্দিন আহমেদ স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের নতুন অফিস উদ্বোধন

ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলেন তানযীমুল উম্মার ছাত্র তাহসিন আল মানাফ

যেভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল

খামেনি হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভের ডাক

ছোট ভাইয়ের সিট এভাবে কেড়ে না নিলেও পারতেন–মির্জা আব্বাসকে পাটোয়ারী