মাননীয় মন্ত্রীপরিষদ,
দেশে দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রশাসনিক অপকর্ম কমাতে কেবল আইনগত কঠোরতা যথেষ্ট নয়; নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জোরদার করাও অত্যন্ত জরুরি। সেই আলোকে আমি নিম্নোক্ত প্রস্তাবসমূহ উপস্থাপন করছি:
১. ধর্মীয় জ্ঞান ও অনুশীলন বাধ্যতামূলককরণ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। নিয়মিতভাবে কুরআন, হাদিস ও নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত দিকনির্দেশনামূলক সেশন রাখা হলে তাদের মধ্যে আত্মজবাবদিহিতা ও সৃষ্টিকর্তার ভয় জাগ্রত থাকবে, যা অন্যায় ও দুর্নীতি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
২. আলেম সমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ
প্রতিটি থানা, সরকারি অফিস বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত আলেম/ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। তাদের দায়িত্ব হবে—
নামাজের পর সংক্ষিপ্ত হাদিস পাঠ ও ব্যাখ্যা প্রদান
কুরআন শিক্ষা দেওয়া
নৈতিকতা, পরকালীন জবাবদিহিতা ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি
এর মাধ্যমে একদিকে আলেম সমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রশাসনে নৈতিক চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
৩. কুরআন হিফজে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার
যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ (হাফেজ) করতে সক্ষম হবেন, তাদেরকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননার অংশ হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।
৪. জানাজার শিক্ষা ও পারিবারিক দায়িত্ব
প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন জানাজার নামাজ আদায়ের নিয়ম-কানুন নিজে শিখতে পারেন—এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রিয় মানুষ বা পিতা-মাতার মৃত্যুতে যেন তিনি নিজেই জানাজার নামাজ পরিচালনা করতে পারেন, সে যোগ্যতা অর্জন করা একটি বড় সৌভাগ্য ও দোয়ার বিষয়। এ লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে এবং নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে মানবিক বিশেষ ছুটির বিধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। (কেননা পিতা-মাতা তার নিক্ষুত শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রাষ্ট্রকে দিচ্ছে বিনিময় রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকা উচিত ) যাতে করে সন্তান তার পিতামাতার শেষকৃত্যে শ্রেষ্ঠ দোয়া করতে পারে।
উপসংহার:
ধর্মীয় ও নৈতিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হলে কর্মকর্তাদের অন্তরে জবাবদিহিতা, ন্যায়বোধ ও সৃষ্টিকর্তার ভয় দৃঢ় হবে। এর ফলে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অপরাধ কমাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
লেখা-
মোঃ রাকিব হোসেন
সিনিয়র সহ-সভাপতি
ছাত্র অধিকার পরিষদ, পিরোজপুর জেলা।