এক পশলা বৃষ্টি
সুমন দাস তুমি ষড়ঋতুর ‘কালসাক্ষী’-
প্রকৃতির আঙিনায় উড়ুউড়ু ‘মেঘপুঞ্জ’!
বর্ষাতলে ‘সূর্যীমামার’ লুকোচুরি মনজুড়ানো ক্ষণিকখেলা!
বৃষ্টিস্নাত ‘মাটি-মানুষ’ দূরীভূত গ্লানিছায়া- ‘বৃক্ষরাজির’ তালেতালে প্রাণীকুলে সুখমিছিল সারাবেলা।
তুমি রংধনুর ‘আশীর্বাদ’-
পিপাসা নিবারণে ‘ধরাতল’ প্রকৃতিপানে-ঘরচালে ‘রিমঝিম’ বৃষ্টিপতন শ্রুতিমধুর কানে,
বাদলশেষে পশ্চিমা গগনে ‘রংমেলা’!
‘চাঁদারন্যায়’ আবির্ভূত মেলবন্ধনে বহুদিগন্তের সনে।
তুমি পুষ্পমালার ‘তরী’-
বর্ষাস্পর্শে স্নিগ্ধমায়ায় ‘কদম-কৃষ্ণচূড়া’; শূন্যআলয়ে পরিপূর্ণ ‘সুভাষী’ রঙিন প্রজাপতি,
মাঠে-ঘাটে আনন্দছটায় দুলছে ‘ফুলজমিন’- ‘কৃতজ্ঞতার’ মনোমুগ্ধতায় হৃদয়শীতল করছি মস্তকনতি।
তুমি উচ্চবিত্তের ‘আমেজ’-
‘মেঘনৃত্যতে’ উঠানভিজে অন্ধকারছায়ায়- ‘ধনীঘরের’ পরিকল্পনায় ধুমধামে খিচুড়ি-বিরিয়ানি,
‘কল্পকাহিনীতে’ মত্তহারা পরিবারের সদস্যগুলি! কালের বিবর্তনে ‘বর্ষাবন্ধনা’ উচ্ছ্বাসের শিরোমনি।
তুমি মেহনতির ‘চিন্তারভাঁজ’-
জনসাধারণের টিনছিদ্র মেঝে ‘কাদাময়’; লবনহীন পান্তায় ‘রক্তজল’-‘ভোজনবিলাস’ ভ্রম!
অন্তর্দৃষ্টির জলাঞ্জলিতে ‘মানবসত্তা’ নির্বাসনে! অসহায়দের ভাগ্যদ্বারের মঙ্গলসূচক:- ‘কর্মই ধর্ম’।
তুমি চিত্রশিল্পীর ‘রংতুলি’-
শৈল্পিকগুনে বৃষ্টিকাল উৎসবমুখরে ‘চিত্রদেয়াল’- নিঃসঙ্গতার হৃদয়দ্বার উজারে প্রকৃতিময় ‘প্রেমছবি’,
রঙিনমনে ‘জাতশিল্পীর’ ইচ্ছাশক্তি রংআলয়ে- জানলার সম্মুখে ‘অতন্দ্র -প্রহরী’ কবি।
তুমি শৈশবের ‘অ্যালবাম’-
‘পিতা-মাতার’ অবাধ্যতায় মেঘলাদিনে ‘খেলাধুলা’- বয়সচক্রে একাকীত্বের তীরে ‘স্মৃতিগুলো’ মনমরা!
অবুঝমনে বিজড়িত রং-বেরঙের ‘সময়কাল’- ‘এক পশলা বৃষ্টির’ অপেক্ষায় ‘সর্বহারা’!
প্রবহমান নদী
সুমন দাস
তুমি সরুপথের ‘নির্মাতা’-
জলাশয় ‘আগন্তুকরূপী’ বিশ্রামহীন ঘড়িরকাঁটায় নব্যশাখা সৃষ্টিপানে চিরছন্দ,
অচিনপুরে রাজ্যশাসনে স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠায় ‘মানব-প্রকৃতির’ স্রোতন্যায় আনন্দ।
তুমি নির্জনতার ‘ভান্ডার’-
সঙ্গীহীন চাপাকান্না ‘কোলাহলমুক্ত’ গন্তব্যহীন আঁকাবাঁকাপথে নিরবতায় ছুটেচলা,
প্রকৃতির নৃত্য; নদীর শীতলতায় মাটির মৃদুহাসিই ‘নিঃসঙ্গমালা’।
তুমি বৃক্ষের ‘প্রাণদানকারী’-
‘অস্তিত্বটানে’ শিকড়মূলে নদীজল শোষণে স্থায়ীত্বের প্রয়াশ বারংবার,
স্রষ্টারদানে ‘চিরযৌবনার’ কৃতজ্ঞতায় প্রসন্নময় বৃক্ষরাজদের জগৎ-সংসার।
তুমি সাগরের ‘মিতালি’-
স্থানান্তরে শতবাঁধা অতিক্রমে ‘জলদেবীর’ মেলবন্ধনে দূরদুঃখ অন্তহীন!
‘মনোমন্দিরে’ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে যুগযুগান্তরব্যাপী ‘দু-বলয়ের’ পথচলা সার্বজনীন।
তুমি প্রতিকূলজয়ী ‘বীরসৈনিক’-
‘অপ্রতিরোধ্য’ দূর্যোগে ক্ষান্তনেই যাত্রাকাল-বাঁধভেঙ্গেও ‘অপরাজেয়’ অতিবাহিত,
‘দৈত্যন্যায়’ পাহাড়পুঞ্জ দুমড়েমুচড়ে বীরত্বেরদ্বারে অনুকূলআঁশ প্রলয়শিখায় ‘সুভাষিত’।
তুমি বিষন্নতার ‘অনুপ্রেরণা’-
জীবনযুদ্ধের রণাঙ্গনে আপোষহীন ‘হাতিয়ার’ অসহায়ত্বের বিশ্বস্ত যাদুপাখা,
ঝড়ঝাপটায় ‘তছনছ’ হতাশাগ্রস্তের নেইভাঁজ; উঁচুশিরে ‘বজ্রকন্ঠ’ রক্তমাখা!
তুমি সাহিত্যিকদের ‘ছন্দঘর’-
‘নিশ্চুপমায়ার কেন্দ্রবিন্দু’ কবি-লেখকদের ভাবনাজালে: ‘সাহিত্যরস’ মাধুর্যময়,
মহাগুনীজনের চেতনাবোধে সংজ্ঞায়িত:- ‘প্রবহমান নদী’ দ্রাবকরূপী পাঠকমনে সংশয়?