ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অনন্য ভুমিকা পালনে পুরস্কৃত ইন্সপেক্টর মো. মাসুদ মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে প্রাণ গেল এক কৃষকের দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফর, প্রথম বার্তা: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বাবা দিবসে মঈনের গল্প: বাবার জন্য সন্তানের নিরন্তর লড়াই উত্তর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণের জোর দাবি কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ নারী আটক, সদর থানায় হস্তান্তর জামালপুরে ডিবির অভিযানে ভারতীয় মদ উদ্ধার আটক-২ জামালপুরে দরিদ্র মানুষদের মাঝে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মৌসুমী ফল বিতরণ কেন্দ্র ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করল ছাত্রশিবির ময়নামতি থানা শাখা

বাবা দিবসে মঈনের গল্প: বাবার জন্য সন্তানের নিরন্তর লড়াই

কুবি প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক ব্যাগ AB+ রক্তের জন্য হাহাকার করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রসায়ন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মঈন। রক্তের খোঁজে সে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছে, ফোন করছে একের পর এক। এ রক্ত আর কারো জন্য নয়, শুধুমাত্র তার বাবার জন্য।

ঢাকার পিজি হাসপাতালের একটি বেডে শুয়ে আছেন তার বাবা। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। চিকিৎসার নানা ধাপে রক্তের প্রয়োজন হয় বারবার। আর তখনই ছুটতে হয় মঈনকে। ক্লাস, পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মাঝেও বাবার খবর নিতে তাকে প্রায়ই যেতে হয় ঢাকায়। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবনের স্বাভাবিক ব্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একজন অসুস্থ বাবাকে বাঁচিয়ে রাখার কঠিন সংগ্রাম।

কিন্তু মঈনের গল্প শুধু আজকের নয়। এর শুরু বহু বছর আগে। সংসারের হাল ধরতে একসময় তার বাবা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ গড়তে তিনি বছরের পর বছর কাটিয়েছেন প্রবাসের কঠোর জীবনে। ঈদ, জন্মদিন কিংবা পরিবারের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে অনেক সময়ই তিনি পাশে থাকতে পারেননি। কিন্তু দূরদেশে থেকেও সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।

সেই পরিশ্রমের ফলেই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে মঈন। যে বাবা একসময় সন্তানের জন্য নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন, আজ সেই বাবার জীবন রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে ছেলে।

বাবা দিবসের আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে বাবার ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের কথা। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন মুহূর্তগুলোতে বাবা-সন্তানের সম্পর্কের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মঈনের গল্প সেই বাস্তবতারই এক জীবন্ত উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাবারা অনেক সময় নিজেদের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট আড়াল করে রাখেন। সন্তানদের সামনে তাঁরা শক্ত থাকার চেষ্টা করেন। অথচ বয়সের ভার, রোগব্যাধি কিংবা জীবনের অনিশ্চয়তা একসময় সেই শক্ত মানুষটিকেও দুর্বল করে দেয়। তখন প্রয়োজন হয় পরিবারের অন্য সদস্যদের, বিশেষ করে সন্তানদের ভালোবাসা ও পাশে থাকার।

মঈনের কাছে বাবা দিবস এখন আর শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়। এটি তার কাছে বাবার ত্যাগের কথা মনে করার দিন, বাবার জন্য প্রার্থনা করার দিন এবং বাবার পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

সমাজের অসংখ্য সন্তানের মতো মঈনও আজ বুঝতে শিখেছে—বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন; তিনি একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাহস এবং আশ্রয়ের নাম। ছোটবেলায় যে বাবা সন্তানের হাত ধরে পথ দেখান, জীবনের এক পর্যায়ে এসে সেই বাবার হাতটাই শক্ত করে ধরে রাখতে হয় সন্তানকে।
এই বাবা দিবসে তাই মঈনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাবাদের ভালোবাসা অনেক সময় শব্দে প্রকাশ পায় না। তা লুকিয়ে থাকে বছরের পর বছর পরিশ্রমে, নিঃশব্দ ত্যাগে এবং সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অবিরাম সংগ্রামে। আর সেই ভালোবাসার ঋণ শোধ করা না গেলেও, অন্তত পাশে থাকা যায়—যেমনটি আজ করছে মঈন, তার অসুস্থ বাবার জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাবা দিবসে মঈনের গল্প: বাবার জন্য সন্তানের নিরন্তর লড়াই

আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

এক ব্যাগ AB+ রক্তের জন্য হাহাকার করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রসায়ন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মঈন। রক্তের খোঁজে সে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছে, ফোন করছে একের পর এক। এ রক্ত আর কারো জন্য নয়, শুধুমাত্র তার বাবার জন্য।

ঢাকার পিজি হাসপাতালের একটি বেডে শুয়ে আছেন তার বাবা। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। চিকিৎসার নানা ধাপে রক্তের প্রয়োজন হয় বারবার। আর তখনই ছুটতে হয় মঈনকে। ক্লাস, পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মাঝেও বাবার খবর নিতে তাকে প্রায়ই যেতে হয় ঢাকায়। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবনের স্বাভাবিক ব্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একজন অসুস্থ বাবাকে বাঁচিয়ে রাখার কঠিন সংগ্রাম।

কিন্তু মঈনের গল্প শুধু আজকের নয়। এর শুরু বহু বছর আগে। সংসারের হাল ধরতে একসময় তার বাবা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ গড়তে তিনি বছরের পর বছর কাটিয়েছেন প্রবাসের কঠোর জীবনে। ঈদ, জন্মদিন কিংবা পরিবারের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে অনেক সময়ই তিনি পাশে থাকতে পারেননি। কিন্তু দূরদেশে থেকেও সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।

সেই পরিশ্রমের ফলেই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে মঈন। যে বাবা একসময় সন্তানের জন্য নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন, আজ সেই বাবার জীবন রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে ছেলে।

বাবা দিবসের আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে বাবার ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের কথা। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন মুহূর্তগুলোতে বাবা-সন্তানের সম্পর্কের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মঈনের গল্প সেই বাস্তবতারই এক জীবন্ত উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাবারা অনেক সময় নিজেদের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট আড়াল করে রাখেন। সন্তানদের সামনে তাঁরা শক্ত থাকার চেষ্টা করেন। অথচ বয়সের ভার, রোগব্যাধি কিংবা জীবনের অনিশ্চয়তা একসময় সেই শক্ত মানুষটিকেও দুর্বল করে দেয়। তখন প্রয়োজন হয় পরিবারের অন্য সদস্যদের, বিশেষ করে সন্তানদের ভালোবাসা ও পাশে থাকার।

মঈনের কাছে বাবা দিবস এখন আর শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়। এটি তার কাছে বাবার ত্যাগের কথা মনে করার দিন, বাবার জন্য প্রার্থনা করার দিন এবং বাবার পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

সমাজের অসংখ্য সন্তানের মতো মঈনও আজ বুঝতে শিখেছে—বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন; তিনি একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাহস এবং আশ্রয়ের নাম। ছোটবেলায় যে বাবা সন্তানের হাত ধরে পথ দেখান, জীবনের এক পর্যায়ে এসে সেই বাবার হাতটাই শক্ত করে ধরে রাখতে হয় সন্তানকে।
এই বাবা দিবসে তাই মঈনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাবাদের ভালোবাসা অনেক সময় শব্দে প্রকাশ পায় না। তা লুকিয়ে থাকে বছরের পর বছর পরিশ্রমে, নিঃশব্দ ত্যাগে এবং সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অবিরাম সংগ্রামে। আর সেই ভালোবাসার ঋণ শোধ করা না গেলেও, অন্তত পাশে থাকা যায়—যেমনটি আজ করছে মঈন, তার অসুস্থ বাবার জন্য।