ইবি ছাত্রশক্তির কমিটিকে বিতর্কিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ছাত্রশক্তি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার নবগঠিত কমিটিকে বিতর্কিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিশনু আল আসনাউন, সদস্য নিরব আলী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
জানা যায়, গত ৫ জুলাই আগামী ১ বছরের জন্য ফুয়াদ হাসানকে আহ্বায়ক, ইফতেহার উদ্দিন তামিমকে সদস্য সচিব ও যায়েদ বিন ওসমানকে মুখ্য সংগঠক করে ৩ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। আগামী ৭ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে মোবাশ্বির আমিন অভিযোগ করেন, “গত ৫ জুলাই ইবি ছাত্রশক্তির কমিটি হয়েছে। কিন্তু আমরা চরম বিস্ময়ের সাথে দেখলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক সংগঠন ‘এনসিপি’র ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’তে জুলাইয়ের সেই প্রকৃত লড়াকু যোদ্ধাদের বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হয়নি। জুলাইয়ের স্পিরিটকে পদদলিত করে শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে যাদেরকে আজ নেতৃত্বে বসানো হলো, তারা বিগত দিনের স্বৈরাচারের উচ্ছিষ্ঠভোগী সাবেক ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের সুবিধাবাদী কর্মী। এটি একটি চরম ‘হাইব্রিড পকেট কমিটি’।”
তিনি ছাত্রশক্তির আহবায়ক ফুয়াদ হাসানকে ফ্যাসিবাদের দোসর দাবি করে বলেন, “এই তথাকথিত কমিটির আহবায়ক ফুয়াদ হাসান কোনো সাধারণ মুখ নয়। ফ্যাসিবাদী আমলে প্রত্যক্ষভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও খুনি সংগঠন ছাত্রলীগের সাথে তার যুক্ত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ, ছবি আমাদের হাতে আছে। এছাড়া ৫ আগস্টের পর এই ফুয়াদ হাসানই শাহ আজিজুর রহমান হলে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের জন্য মধ্যস্থতা করেছিল। সে আবারও ক্যাম্পাসে নবরূপে ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে। এছাড়া, সদস্য-সচিব ইফতেখার উদ্দীন রাজনৈতিক বহুরূপী। এই ব্যক্তি পূর্বে ছাত্রলীগের সকল প্রকার অপকর্মের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। অভ্যুত্থানের পর যখন সে দেখল বাতাস ঘুরে গেছে, তখন সে ছাত্রদলের কমিটিতে জায়গা পাওয়ার জন্য নির্লজ্জের মতো সিভি জমা দেয়. এর একাধিক নিউজ ও প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের রাজপথের পরীক্ষিত ক্যাম্পাস নেতৃত্বদেরকে অবজ্ঞা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তি ছাত্রদলের বি টিম এবং ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে কমিটি দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা লঙ্ঘন ও রক্তের সাথে বেইমানি করেছে।”
এসময় তারা দাবি করে বলেন, “ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রহসনের পকেট কমিটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।”
এবিষয়ে ছাত্রশক্তির ইবি শাখার সভাপতি ফুয়াদ হাসান বলেন, যে ৩ জন কমিটিতে আসছে তাদের কারো ছাত্রলীগে কোন পদ পদবী বা ছাত্রলীগে পদ পাওয়ার জন্য নূনতম সিভি দেওয়ার প্রমান কেও দেখাতে পারবে না। অভিযোগকারী কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর ৫ ই জুলাই রাতে আমাকে ফোন দিয়ে সুভেচ্ছা জানায়। সে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং নির্দিষ্ট একটি পদের নিষ্চয়তা চায়। আমি তাকে কার্যক্রমের ভিত্তিতে কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে আশ্বস্ত করি। কিন্তু আজ কেন হঠাৎ কেন এমন বক্তব্য দিয়েছে ,তা আমার জানা নেই।






















