ঢাকাশনিবার , ২১ মার্চ ২০২৬
  1. সর্বশেষ

মায়ের স্মৃতি

প্রতিবেদক
admin
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

আমার মনের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, আমার মা জান্নাতের শ্রেষ্ঠস্থান জান্নাতুল ফেরদাউসে যেতে সক্ষম হবেন (মহান আল্লাহ কবুল করুন)। আমার নিজের মা, এ জন্য অতি আবেগপ্রবণ হয়ে এমনটা বলছি না। এ জীবনে আমার মা বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বহু কষ্ট করেছেন। পৃথিবীর জীবনে আমার মা সুখ-শান্তির মধ্যে কোন সময় ছিলেন না। আমার মা তার স্বামীর থেকেও যথাযথ হক পাননি। আমার শ্রদ্ধেয় বাবাকে এ কথা বললে তিনি তখন কৌশলে এড়িয়ে যেতেন। আমরা তিন ভাই এক বোন মায়ের যথাযথ যত্নও নিতে পারিনি। মা আমাদের দুই ভাইকে নামাজ পড়তে বলতেন। ছোটবেলা থেকে মা নামাজ আদায় করলেও আমরা ঠিকমত নামাজ আদায় করতাম না।

আর আমরা এখন সরাসরি মায়ের সেবা করতে পারছি না। এখন শুধু (রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানিস সগিরা) এই দোয়া পড়ে সান্ত্বনা নিচ্ছি। ঠিকই সঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া করছি। পত্রপত্রিকা পড়ছি। জীবন অতিবাহিত করছি। কিন্তু মায়ের জন্য আমাদের সেই কষ্ট কমছে না। আমার মা নেই পৃথিবীতে। একসময় ভাবতাম (যখন মা পৃথিবীতে ছিলেন) আমার মা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে আমি কী করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকব। কিন্তু তার পরও জান-প্রাণ নিয়ে বেঁচে আছি।তবে দিন রাতের বেশির ভাগ সময় মায়ের কথা মনে পড়ে।

মাঝে মধ্যে আমাকে যখন কেউ প্রশ্ন করে, আমি তখন উত্তর দিতে ভুলে যাই। কারণ ওরকম অনেক সময়ই মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। সেদিন আমার ছোট ভাই প্রসবকালে আমার শ্রদ্ধেয় দুঃখী ও অভিমানী মা (আমাদের জান্নাত) পৃথিবীর জীবন থেকে বিদায় নেন। মা ইন্তেকালের আগে থেকেই তিনি মারাত্মক কোনো অসুস্থ ছিলেন না। মা নানান ট্র্যাজেডিতে মনে খুব আঘাত পেয়েছেন। মায়ের বুকটা ব্যথায় ভরা ছিল।কিন্তু সুস্থ ছিলেন। হ্যা, আমার ছোট ভাইয়ের জন্মের পর মায়ের স্বাভাবিক জ্ঞান ছিল না। এমন অবস্থায়ও মা কুরআনের বিভিন্ন সুরা মুখস্থ পড়তেছিলেন। কালেমা পড়তেছিলেন। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পর মা আমাদের ছেড়ে নিরব হয়ে চলে যান। সেই নিরবতা থেকে আর জেগে উঠেননি। পাড়ি জমিয়ে দেন পরপারের জগতে।

আজ খুব মনে পড়ে, আগে প্রতিদিন বিভিন্ন দোয়া পড়ে ‘ফুঁ’ দিতেন। রাতে আমরা বাসায় ফিরলে মা আমাদের নিয়ে খুশির গল্প করতেন। মা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন আজানের সামান্য পরেই। ফজরের আজানের সাথে সাথে মায়ের ঘুম ভেঙে যেত। মা ফজরের নামাজের পর দীর্ঘ সময় কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের কুরআন পড়াতেন। ছোটবেলায় মাকে অনেক বিরক্ত করতাম। আমার মনে আছে একবার মা সকালে বাড়িতে একটি কক্ষে বসে কুরআন তিলাওয়াত করছেন। এমন অনেক সময় আমি মায়ের কাছে গিয়ে নাশতা চাইতাম।আমাকে নাশতা তৈরি করে দিতেন। খাওয়াদাওয়া নিয়ে মাকে মহা বিরক্ত করেছি। মা প্রচণ্ড ধৈর্য সহকারে আমাদেরকে খাবার খাওয়াতেন। মায়ের হাজারো স্মৃতি এখন চোখের সামনে ভাসছে। কিন্তু মা নেই। এসব কিছু মহান আল্লাহর ইচ্ছা।
আজো মাঝে মধ্যে রাতে মায়ের কথা মনে করে কেঁদে উঠি। মাকে জীবিত অবস্থায় দেখতাম নানির কথা মনে করে মা প্রায়ই কেঁদে উঠতেন। তখন এর গুরুত্ব বেশি বুঝিনি। এখন বুঝতে পারছি।কিন্তু এখন বুঝে কোনো লাভ পাচ্ছি না।

তাই আমাদের যাদের মা এখনো বেচে আছেন। তারা যেন তাদের কোনো কষ্ট না দিই। তাদের যথাযথ সেবা ও সম্মান করার চেষ্টা করি। পরিশেষে আল্লাহর কাছে দুআ করি, আল্লাহ তা’য়ালা যেন আমার মাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন।আমিন।

হাফিজুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, কওমি মাদরাসা টাংগাইল।

আরও পড়ুন

চকরিয়ায় সফল অস্ত্রোপচারে সুস্থতার পথে ইউনুস

সৌদি আরবে বৈঠকে বসছে মুসলিম দেশগুলো

চকরিয়ায় ময়লার স্তূপে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি

মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে পালাচ্ছে মার্কিন রণতরী

সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর আগামী শুক্রবার(২০ মার্চ)

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অবৈধ দোকান স্থাপনা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত যুবদল নেতা জামাল খান, অতিষ্ঠ এলাকাবাসি

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত কর্মীর উপর হামলা

ইরানের হামলায় ৩২০০ মার্কিন সেনা হতাহতের দাবী

ছাদ ঢালাই চলাকালেই হামলা: কক্সবাজারে প্রকাশ্যে দখলচেষ্টা, তাণ্ডব ২ ঘণ্টা ধরে

ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র : নাকচ ইরানের সর্বোচ্ছ নেতার

মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এখন যেন এক চলন্ত নরক :

ভাড়া বাসায় বসেই জনগণের সেবায় রাউজান হাইওয়ে পুলিশ