চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল শাহী ময়দানে ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার ২৭ শে রবিউল আউয়াল যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘২২তম আন্তর্জাতিক জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) মাহফিল। বাদ যোহর থেকে এই বিশাল নূরানী মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন হযরত মওলানা শাহছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.) এর আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় ২২তম আন্তর্জাতিক জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) এর সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন নায়েব সাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী।
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুসলিম বিশ্বের খ্যাতিমান ইসলামিক স্কলার ও আন্তর্জাতিক মেহমানবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাহরাইনের সুপ্রিম সুন্নি শরিয়াহ আদালতের প্রধান বিচারপতি এবং ইমাম মালিক ইবনে আনাস সোসাইটির সভাপতি আল্লামা ড. ইবরাহিম আল শেখ রশিদ আল-মুরাইখী, মিশর আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক দাওয়াহ অনুষদের প্রাক্তন ডিন প্রফেসর ড. জামাল ফারুক জিবরিল মাহমুদ আদ্ দাক্কাক, বাহরাইনের ইমাম মালিক ইবনে আনাস সোসাইটির ফিন্যান্স সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সামির আবদুল রহমান খলিফা আল ফায়েজ। বিদেশী মেহমানদের আরবি ও ইংরেজি বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যুক্তরাজ্যের মিনিস্ট্রি অব জাস্টিসের মুসলিম চ্যাপলেইন শায়খ মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আযহারী।
এছাড়াও মাহফিলে আমন্ত্রিত ওয়ায়েজীনে কেরাম হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের চেয়ারম্যান আল্লামা কাযী মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন আশরাফী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা হাফেজ কাজী আবদুল আলিম রেজভী, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুফতি আহমদ হোসাইন আল কাদেরী, মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রেজভী, মুহাদ্দিস মাওলানা মুহাম্মদ ইদ্রিছ আনসারী, এমফিল গবেষক মুফতি এ. বি. এম. আমিনুর রশীদ, মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ বশির উল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ এনাম রেযা কাদেরী, মাওলানা মঈন উদ্দীন খান মামুন।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ, খান এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সৈয়দুল হক খান, ফনিক্স শিপিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সৈয়দ সোহেল হাসনাত, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের, শাহজাদা সৈয়দ এরহাম হোসাইন ও শাহজাদা সৈয়দ মানাওয়ার হোসাইন সহ খলিফায়ে গাউছুল আজমগনের দরবারের আওলাদগণ উপস্থিত ছিলেন।
এই আন্তর্জাতিক মাহফিলে ছদারত ও আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন আওলাদে রাসুল, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন হযরত মওলানা শাহছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)।
মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ্ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী বলেন, "বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ধরাধামে আগমন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত। তাঁর আদর্শ, সুন্নাহ ও মানবিক গুণাবলী অনুসরণের মাধ্যমেই ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ যুগ যুগ ধরে সুফিবাদ ও ইসলামের এই শাশ্বত শান্তির বার্তাই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। নবীজীর প্রেম ও আউলিয়ায়ে কেরামের দেখানো পথ ধরে চললে সমাজ থেকে সব ধরনের অস্থিরতা দূর হবে।"
আন্তর্জাতিক মেহমানের বক্তব্যে বাহরাইনের সুপ্রিম সুন্নি শরিয়াহ আদালতের সাবেক প্রধান বিচারপতি আল্লামা ড. ইবরাহিম আল শেখ রশিদ আল-মুরাইখী বলেন, "বর্তমান বিশ্বের নানামুখী সংকট ও অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে হলে রাসূল (স.)-এর প্রদর্শিত সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ববোধের কাছে ফিরে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) আমাদের কেবল আনন্দ উদযাপনেরই সুযোগ দেয় না, বরং নবীজীর মহান জীবনাদর্শ নিজেদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের শিক্ষা দেয়।"
অন্যান্য আমন্ত্রিত দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম; এখানে কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা হানাহানির স্থান নেই। আউলিয়ায়ে কেরামগণ যুগে যুগে নিজেদের চরিত্র-মাধুর্য ও ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে ইসলামের আলো প্রজ্জ্বলিত করেছেন। বক্তারা যুবসমাজকে সঠিক দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।