জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ফজলুল হক আকন্দের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভুয়া(ফেক)ফেসবুক ও টিকটক অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিজের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে দাবি করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক।
ফজলুল হক আকন্দের অভিযোগ,একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ফেসবুক ও টিকটক আইডি খুলে আপত্তিকর পোস্ট ও মন্তব্য প্রচার করছে। কোনো আইডি নজরে এলে বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে একই চক্র নতুন নামে আবারও অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন ফজলুল হক আকন্দ। তাঁর দাবি,প্রাকৃতিক ও উদ্ভিজ্জ উপাদানভিত্তিক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা করে আসছেন। এ কারণে এলাকায় তাঁর একটি সামাজিক ও পেশাগত পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
ফজলুল হক আকন্দ জানান,তিনি বাংলাদেশ দেশীয় চিকিৎসক সমিতির জামালপুর জেলা শাখার সদস্য এবং তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস-১৮৮০(৫৬)/৯৭। তাঁর দাবি,আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ ও প্রত্যয়নপত্রের পাশাপাশি নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া বৈধ ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে তিনি তাঁর ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ফজলুল হক আকন্দ বলেন,আমার চিকিৎসাসেবা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিত ভাবে আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ফেক আইডি পরিচালনা করছে। এসব আইডি থেকে আপত্তিকর মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে আমার সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি।
ফজলুল হক আকন্দের দাবি,তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে Fojulu Kobiraj নামে একাধিক আইডি, ভন্ড কবিরাজ ফজলু, কবিরাজ ফজলু, Fojulu Pagla সহ বিভিন্ন নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া রোজিনা বেগন ও রিয়া মনি নামেও কয়েকটি আইডি থেকে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও তাঁর চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী ব্যক্তিরা জানান, ফজলুল হকের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা নিয়ে তারা উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য,দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসা ফজলুল হক আকন্দ কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের অপপ্রচার হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। তাদের মতে,কারা এসব ভুয়া আইডি পরিচালনা করছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত-তা প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা
এ বিষয়ে ফজলুল হক আকন্দ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত ভুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত,অপসারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।