দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের অজুহাতে দলিল লেখকদের কর্মচ্যুত না করা এবং দলিল প্রতি ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা নির্ধারণসহ ৭ দফা দাবিতে জামালপুরে উত্তাল হয়ে উঠেছে দলিল লেখক সমাজ।
শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) দুপুরে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।
জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব আরজু আকন্দের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হানিফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভায় বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি ফজলুল হক,বাবুল হোসেন, বজলুল রহমান বাবুল,সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মওদুদ আহমেদ মধু,সাধারণ সম্পাদক মহন আকন্দ,সহ-সভাপতি নাহিদ ইসলাম,সরিষাবাড়ী উপজেলার ফারুক তালুকদার,আসাদুজ্জামান,মাদারগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক কাওছার আহাম্মেদ, বকশীগঞ্জের সাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন হিলারী,মেলান্দহের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জাহান,ইসলামপুরের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বিপুল ও দেওয়ানগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমানসহ অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে আরজু আকন্দ বলেন, "বিগত ১৭ বছর ধরে গড়ে ওঠা কুচক্রী মহলটি আজ বর্তমান সরকারের কাঁধে ভর দিয়ে দুই লাখ দলিল লেখক পরিবারকে বেকার করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের আকুল আবেদন-আমরা যেন কোনোভাবেই কর্মচ্যুত না হই।"
তিনি অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন: আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না। দলিল প্রতি ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন করতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কেউ দলিল মুসাবিদা ও দাখিল করতে পারবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।সমিতি গুলোর সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করতে হবে।
সরকারি খরচে শেড ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে। নথিপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয় বিধায় কোনো ভুলত্রুটিতে দলিল লেখকদের আসামি করা যাবে না। দ্রুত ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমতি দিতে হবে।
সমাবেশে জেলা ও উপজেলার সকল পর্যায়ের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।