ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার খাতা হারিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বলেছেন, 'আমাকে বিভাগের কর্মচারী জাভেদ কোনো খাতা জমা দেয়নি। খাতা না পাওয়া সত্ত্বেও অযাচিতভাবে আমার উপর দায় চাপানো হচ্ছে। বিভাগে থেকে খাতা না আসলে কিভাবে নাম্বার দিব?'
তিনি বলেন, 'কিছুদিন আগে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কর্মচারী জাভেদ আলী আমার বাসায় এসে হাতে একটা খাম দিয়ে বলেন এখানে নম্বর আছে। ওই খামের নম্বরটা থেকে কোর্সের শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নাম্বারিং করতে অনুরোধ জানান। পরে আমি তাকে জিজ্ঞেস করি খাতা কোথায়? সে উত্তর দেয় বিভাগে খাতা পাওয়া যায়নি। পরে তাকে খাতা খুজে নিয়ে আসতে বলি এবং তারপর নাম্বার দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেন।'
তিনি আরও বলেন, 'তিন-চার দিন পরে জাভেদ পুনরায় এসে হাত জোড় করে বলে স্যার খাতা খুঁজে পায়নি। মনে হয় বিভাগের অনেক পুরাতন খাতা-পত্রের সাথে ভুলে বিক্রি করে দিয়েছি। যেখানে আমার কাছে কোনো খাতাই আসেনি সেখানে মার্ক দেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না। আমাকে না জানিয়ে অবগত না করে খাতা দেওয়া হয়েছে বললেই তো হবে না। আমার কাছে কোন খাতাই আসেনি, আবার হারিয়ে ফেললাম কিভাবে?'
এ ঘটনায় জাভেদ আলী বলেন, 'আগে যা হয়ে গেছে তা নতুন করে আমি বলতে পারবো না।'
এর আগে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিভাগের খাতাপত্র আমিই দেখি। প্রোভিসি স্যারকে আমি খাতা দিয়েছিলাম।
উল্লেখ্য, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের একটি কোর্সের ৬০টির বেশি উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ায় পাঁচ মাস ধরে আটকে আছে সেমিস্টারের ফল। ফল প্রকাশ করতে না পারায় পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষাও স্থগিত করেছে বিভাগ। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ২ মে শুরু হয়ে শেষ হয় ২০ মে। এ সেমিস্টারে মোট ছয়টি কোর্সের মধ্যে পাঁচটির নম্বরপত্র পরীক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে জমা পড়েছে। তবে ২১০৭ নম্বর কোর্সের (History of the Modern Europe Till 1848 A.C.) উত্তরপত্রের হদিস না পাওয়ায় ফল প্রকাশ করতে পারছে না বিভাগ। এই ঘটনার তদন্তে ২৬ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড.শাহাবুল আলমকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করেছে বিভাগ।