ইন্টারনেট বন্ধ, রাতভর ধরপাকড়ের শঙ্কা, থমথমে দিল্লি
- আপডেট সময় : ১১:২০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যন্তর মন্তর এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতভর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
<span;>তবে রাতে আন্দোলন দমনে অভিৃযান চালানো হবে- শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এমন কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই ও জনগণকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘যাচাইবিহীন’ তথ্য ছড়ানো বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে, ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটারের মধ্যে বিকেল ৪টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বুধবার (২২ জুলাই) রাত থেকেই প্রতিবাদস্থলের চারপাশে শক্তিশালী মোবাইল জ্যামার চালু করে রাখা হয়েছিল।
কন্ট্রাক্ট ও সেন্ট্রাল দিল্লিতে একাধিক সহিংসতার ঘটনার পর কেন্দ্র সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। এসব সহিংসতায় অন্তত ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এসিপি পদমর্যাদার দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পার্শ্ববর্তী কনট প্লেসে আন্দোলনরত জনতা র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) ৪৫ বছর বয়সী এক সদস্যের ওপর লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে।
সিজেপি-র আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই যন্তর মন্তর এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিতের এই আদেশ এলো।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রতিবাদ অঞ্চল ও এর আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সামলাতে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘাতের সময় এসিপি পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যেই বন্ধ কনট প্লেসের সব দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ
অন্যদিকে, থমথমে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এনডিটিএ) এক জরুরি পরামর্শ বা নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই বাণিজ্যিক কেন্দ্র কনট প্লেস তথা রাজীব চকের সব দোকানপাট, অফিস ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানের কাছ থেকে টেলিফোনে নির্দেশনা পাওয়ার পর ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে। চলমান সিজেপি আন্দোলনের কারণে কনট প্লেসের আশপাশে ‘সংকটময় পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে ব্যবসায়ী সংগঠনটি সব দোকান মালিক, অফিস ও রেস্তোরাঁগুলোকে নির্দেশ মেনে ব্যবসা স্থগিত রাখার আহ্বান জানায়।
পরামর্শ বা অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে, যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি কিংবা সাধারণ মানুষের হতাহত হওয়া এড়াতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এনডিটিএ প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, কনট প্লেস ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল লোকসমাগম এবং মারাত্মক ভিড়ের ব্যাপারে এনডিএমসি তথ্য দেওয়ার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কর্মচারী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতুল ভার্গব বলেন, কনট প্লেসে বিপুল লোকসমাগম হয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষ এই এলাকায় জড়ো হচ্ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং আমাদের কর্মী ও গ্রাহকদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে একটি পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা দোকানপাট যথাসম্ভব দ্রুত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেই।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া























