ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে বিমান হামলায় কেঁপে উঠল টেকনাফ, আতঙ্কে সীমান্তবাসী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু ও বুচিডং এলাকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। বুধবার (১ জুলাই) রাতের এ হামলার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরপর কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ সময় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া, সাবরাং, হ্নীলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। বিকট শব্দে অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালাম বলেন, “হঠাৎ মনে হচ্ছিল পুরো মাটি কাঁপছে। পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। প্রথম বিস্ফোরণের পর নাফ নদীর ওপারে আগুনের শিখাও দেখা যায়।”

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, রাত সোয়া ৯টার পর থেকে মংডু টাউনশিপ এলাকায় থেমে থেমে বিমান হামলা চলতে থাকে। রাত ১১টা পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।

সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, মংডু শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালায়। এ সময় বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ ও গোলাবর্ষণ করা হয়। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে আরাকান আর্মিও। হামলায় কয়েকটি এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়েছে, বুচিডং ও মংডু এলাকায় চালানো হামলায় কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফ পৌরসভার কুলালপাড়ার বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, “আগের তুলনায় এবার বিস্ফোরণের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে।”

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। সীমান্ত ও নাফ নদীতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘটিত বিস্ফোরণের শব্দ সীমান্ত এলাকায় শোনা গেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলমান রয়েছে। সর্বশেষ কয়েক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকলেও নতুন করে বিমান হামলার ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মিয়ানমারে বিমান হামলায় কেঁপে উঠল টেকনাফ, আতঙ্কে সীমান্তবাসী

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু ও বুচিডং এলাকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। বুধবার (১ জুলাই) রাতের এ হামলার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরপর কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ সময় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া, সাবরাং, হ্নীলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। বিকট শব্দে অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালাম বলেন, “হঠাৎ মনে হচ্ছিল পুরো মাটি কাঁপছে। পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। প্রথম বিস্ফোরণের পর নাফ নদীর ওপারে আগুনের শিখাও দেখা যায়।”

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, রাত সোয়া ৯টার পর থেকে মংডু টাউনশিপ এলাকায় থেমে থেমে বিমান হামলা চলতে থাকে। রাত ১১টা পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।

সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, মংডু শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালায়। এ সময় বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ ও গোলাবর্ষণ করা হয়। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে আরাকান আর্মিও। হামলায় কয়েকটি এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়েছে, বুচিডং ও মংডু এলাকায় চালানো হামলায় কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফ পৌরসভার কুলালপাড়ার বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, “আগের তুলনায় এবার বিস্ফোরণের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে।”

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। সীমান্ত ও নাফ নদীতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘটিত বিস্ফোরণের শব্দ সীমান্ত এলাকায় শোনা গেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলমান রয়েছে। সর্বশেষ কয়েক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকলেও নতুন করে বিমান হামলার ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।