নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজারঃ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’
প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত, জলবায়ুর জন্য, আমাদের জন্য পরিবেশ এ প্রতিপ্রাদ্যকে সামনে রেখে চকরিয়া শাখার উদ্যোগে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে চকরিয়ার মাতামহুরী ব্রীজের উপর মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে”
“Inspired by Nature. For Climate. For Our Future.” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সাথে আরো অংশ নেয় চকরিয়ায় কাজ করে এমন দেশের ১১টিরও বেশি পরিবেশ, উন্নয়ন, যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিকরা।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হলেও দেশে এখনও জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই।
ধরা’র চকরিয়া শাখার সভাপতি এ, কে, এম বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসফাতুল ইসলাম সিফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরা’র কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন,ধরা’র সহ সভাপতি সাংবাদিক বশির আল মামুন।
আরও বক্তব্য রাখেন,চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান জিসান, ধরা চকরিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ বাবুল, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফছা খানম, ধরা’র মহেশখালী উপজেলার আহবায়ক সাংবাদিক কাইছার হামিদ,
কর্মনীড় সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নারী নেত্রী শাহানা বেগম, ধরা’র মহেশখালী উপজেলার সাংবাদিক আবদুস সালাম কাকলী, বাংলাদেশ আলোর জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ আমিন,
জেলা মৎস্যজীবী নেতা আশরাফ আলী, চকরিয়া প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক সাংবাদিক জহিরুল আলম সাগর, ধরা’র চকরিয়া উপজেলা প্রচার সম্পাদক নুরুল ইসলাম সুমন, দপ্তর সম্পাদক মঈনুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,মমতা যুব মহিলা ক্লাবের সভাপতি খুকি চৌধুরী, যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্য সুমাইয়া সোলতানা,
জেলে সমবায় সমিতির মোহাম্মদ মোক্তার,
নারী উদ্যোক্তা শাহজাদী জাহান, সেলিনা আক্তার, জন্নতুন নেছা জিসান, শিক্ষার্থী নাজিফা জাহান নাহি , শারমিন আক্তার পুতুল, নাজিয়া জান্নাত, মনি শীল, ইউথ সদস্য এস.আই. রুবেল, জেলে সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল আবছার ও জামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন বলেন, “বিশ্বব্যাপী জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত বিশ্বের অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটকে ত্বরান্বিত করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ভূমি ধীরে ধীরে সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পাহাড় কাটা, বৃক্ষনিধন, অবৈধ বালু উত্তোলন, খাল-বিল ও নদী ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের কারণে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।”
ফরিদুল আলম শাহীন সাংবাদিক অলি উল্লাহ রনির সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “মাতামুহুরী নদীর চোরাবালিতে পড়ে শিশুটির মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।”
সভাপতির বক্তব্যে এ, কে, এম বেলাল উদ্দীন বলেন, “চকরিয়ায় পরিবেশ ধ্বংস ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রিয় তিনজন সহকর্মী
সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। পরিবেশ রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “মাতামুহুরী নদী ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি।”
বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী রক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
কর্মসূচির শেষে পরিবেশ রক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বিকেল সাড়ে ৫ টায় মাতামুহুরী সেতুর ওপর আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে একটি মৌন মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা চিরিঙ্গা জনতা মার্কেট এলাকায় গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।