স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামে বৃদ্ধা মাকে মারধরের প্রতিবাদ করায় মতি সরদার নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাই রানা সরদার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের বাসিন্দা হানিফ সরদারের ছেলে রানা সরদার ও তার ভাই সাগর সরদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ ইং সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রানা সরদার নিজ বাড়িতে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে নিজের মায়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত চাচাতো ভাই মতি সরদার প্রতিবাদ করলে রানা সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার নাকের ওপর আঘাত করেন। পরে তার ভাই সাগর সরদারসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, অভিযুক্ত রানা সরদার প্রায়ই আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি একপর্যায়ে তিনি ঘরের আসবাবপত্র ট্রাকে করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়ে উল্টো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া নিজের মাকে মারধরের ঘটনার পর নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনাও এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে তার মা অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্তদের বাবা হানিফ সরদার বলেন, “আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। সে শুধু চাচা-চাচিকেই নয়, আমাকেও মারধর ও হয়রানি করে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
এ ঘটনায় আহত মতি সরদারের স্ত্রী পারুল বেগম সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অপরদিকে আহত মতি সরদারের অভিযোগ, তাকে হামলার শিকার করার পর উল্টো তার বিরুদ্ধেই একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর রাজু আহমেদ বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।