ঢাকারবিবার , ৫ এপ্রিল ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. বিশেষ সংবাদ

কক্সবাজারের সীমান্ত বাণিজ্যে বড় ক্ষতি: টেকনাফ স্থলবন্দর ও শাহপরীর দ্বীপ করিডোর বন্ধের প্রভাব

প্রতিবেদক
News Desk
৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

Link Copied!

নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর এবং শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বাণিজ্য প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, স্থলবন্দর ১১ মাস ধরে বন্ধ এবং শাহপরীর দ্বীপ করিডোর চার বছর ধরে নীরব। এর ফলে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ৮০০–৯০০ কোটি টাকার মধ্যে ধরা হচ্ছে। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে পাঠানো প্রায় ৯৩ লাখ ডলারের পণ্যও বন্ধ রয়েছে।
সীমান্ত এলাকা: অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক প্রভাব
সীমান্ত এলাকা সরেজমিনে দেখা গেছে, কেরুনতলী ও সাবরাং ইউনিয়নের নাফ নদীর তীরে একসময় যেসব বন্দর ও করিডোরে ট্রাক, কার্গো বোট এবং শ্রমিকদের ভিড় ছিল, সেখানে এখন শুধু তালাবদ্ধ গুদামঘর ও ফাঁকা ঘাট দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বন্দর ও করিডোরের কারণে গড়ে ওঠা ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং পরিবহন খাতের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ এখন কর্মহীন। জীবিকার সংকটের কারণে অনেকে বিকল্প রোজগারের সন্ধানে অন্য এলাকায় ছুটছেন, যা সীমান্ত এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।
মোহাম্মদ কাশেম, যিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মিয়ানমার থেকে আসা পশুবাহী ট্রলার খালাসের কাজ করতেন, বলেন, “চার বছর ধরে করিডোর বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।”
সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে, যা বাণিজ্য পুনরায় শুরু করা আরও জটিল করেছে। সীমান্ত এলাকা নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক দিক থেকে অনিশ্চিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে।
সরকারি পদক্ষেপ ও আশার আলো
অবস্থা মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, “স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে লাখো মানুষ কর্মহীন হয়েছেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
বাণিজ্যিক ক্ষতি ও পরিসংখ্যান
ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানাচ্ছেন, “গত বছরের এপ্রিল থেকে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকায় আমাদের মাসে ৩০ লাখ টাকা করে প্রায় তিন কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।”
কাস্টমস ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী:
২০২২-২৩ অর্থবছর: মিয়ানমার থেকে এসেছে ১,৯৯,২২৫ টন পণ্য, রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪০৪ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছর: আমদানি মাত্র ১৫,৭৫৭ টন, রাজস্ব এসেছে ১০৮ কোটি টাকা।
উপরের পরিসংখ্যান এবং স্থানীয়দের বক্তব্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, টেকনাফ স্থলবন্দর ও শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার প্রভাব সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক বাস্তবতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।

আরও পড়ুন
শত্রু চিনলে জীবন জয়

শত্রু চিনলে জীবন জয়

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আবুধাবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন

দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার সময় পরিবর্তন

কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

খুরুশকুলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিয়াবুল, সেলিম, রুবেল গ্যাং, অনিরাপদ হয়ে উঠেছে খুরুশকুল।

সুনামগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন ‎

বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা

বিজয় সমাজকল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে ইতালী প্রবাসী শামীমকে সংবর্ধনা প্রদান

বিজয় পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম আক্তার হোসেনের মেয়ে আদিবাকে ২টি গরু ও নগদ অর্থ উপহার ‎

সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ হবে দোকান ও শপিং মল

চকরিয়ায় চিংড়ি ঘের কেন্দ্রিক অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান, ৫ জন গ্রেফতার

সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারে কক্সবাজারে সমন্বয়ক আলমগীরকে যুবদল নেতার লিগ্যাল নোটিশ