জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জামালপুরের আমন চাষিদের ওপর। আমন মৌসুমের মাঝপথে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেচের খরচও বেড়েছে। বাড়তি ব্যয়ের কারণে অনেক কৃষক সেচ দেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ সেচ বন্ধও রেখেছেন। এতে পানির অভাবে জেলার কোথাও কোথাও আমনখেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা
জেলা সাত উপজেলা ও আট পৌরসভা নিয়ে গঠিত জামালপুর কৃষিনির্ভর জেলা। জেলার অর্থনীতিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলতি আমন মৌসুমে জেলায় এক লাখ ২০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এ ছাড়া সবজি ও অন্যান্য ফসল আবাদ হয়েছে আরও প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে। এসব ফসলের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত সেচ
বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনেক কৃষক ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মৌসুমের মাঝপথে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেচের ব্যয় নিয়ে নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে তাঁদের। বাড়তি খরচ সামলাতে না পেরে অনেক কৃষক সেচের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। কোথাও কোথাও জমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ থাকায় শুকিয়ে যাচ্ছে আমনখেত
দেওয়ানগঞ্জ চিকাজানী ও সদর ইউনিয়নের কৃষক আহম্মদ সেক আলীক মিয়া ও জুনাইদ ইসলামপুর পৌরসভার মন্ডলপাড়া গ্রামের ঝিলিক, রেজ্জাক মন্ডল ও পলবান্ধা ইউনিয়নের বাটিকামারী কৃষক হাফিজুর রহমান,ফজলুসহ স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচের খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। আমন ধানের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাড়তি সেচ ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না
মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক মমিনুল হকসহ একাধিক কৃষকও সেচ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা,পানির সংকট ও সেচে অনিয়ম হলে ধানের গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে
কৃষকেরা বলছেন, আমন চাষে সার,কীটনাশক, শ্রমিক ও অন্যান্য উপকরণের খরচের পাশাপাশি সেচের ব্যয়ও বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের দাম সেই অনুপাতে না বাড়লে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সেচের খরচ সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি তাঁদের
মেলান্দহ কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন,কম খরচে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা গ্রহণের মাধ্যমে জ্বালানি-নির্ভরতা ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। কৃষকদের আধুনিক ও সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন,কম খরচে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা গ্রহণের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় ও উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাড়তি সেচ খরচের চাপে পড়েছেন জামালপুরের আমন চাষিরা। সময়মতো সেচ না পেলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আমন আবাদে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কম খরচে সেচ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।