বিমানবন্দরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সেলের সদস্য আহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেছেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান কি বিএনপির সাবেক মহিলা এমপি মিষ্টির চাইতেও গুরুতর অপরাধ করেছেন? না। কিন্তু, তাকে আজ হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তুলার মাধ্যমে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বর্তমান সরকারের মনোভাব প্রকাশ পেলো।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন আহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী। বিমানবন্দরে অনিয়ম, দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আজ তার হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হলো। কারণ, সরকারের দায়িত্বে আছে রাজাকার-আল বদরদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া দেশের একমাত্র দল বিএনপি।’
তিনি লেখেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের আরও অপরাধ তিনি বিএনপি ছেড়েছেন, তার অপরাধ তিনি জামায়াত করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের অপরাধ তিনি মুক্তিযুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন। তার অপরাধ তিনি বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন হয়ে আসা অনিয়ম, দূর্নীতি, অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন।’
জুবায়ের লেখেন, ‘তার বিরুদ্ধে আনা কোনোটাই ফৌজদারি আইনে অপরাধ নয়। অথচ, তাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো। অন্যদিকে রাড্ডা হাসপাতালে যারা ইজ'রাইলী কায়দায় ভাংচুর করলো, বদনা চুরি করে নিয়ে গেলো— তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। সরকারের একজন একজন মহিলা এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পদ থেকে অপসারণ করলেও তাকে এখনো গ্রেফতার করলো না।’
এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান কি বিএনপির সাবেক মহিলা এমপি মিষ্টির চাইতেও গুরুতর অপরাধ করেছেন? না। কিন্তু, তাকে আজ হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তুলার মাধ্যমে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বর্তমান সরকারের মনোভাব প্রকাশ পেলো। পাকিস্তান যাদের বাপ-দাদার বাড়ি, করাচি যাদের জন্ম, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের ক্ষোভের আস্ফালন জনগণ বুঝে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার অভিযোগে বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। শনিবার আদালত তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারের আগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি, জনগণের জন্য সংগ্রাম করব। আমি যেন জনগণের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যদি শহীদ হতে পারি।’