ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রশাসন। রবিবার (৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। পরে র্যালির মাধ্যমে করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, হল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পরিষ্কার করা হয়। এসময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন থাকতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়।
অবিযানে অংশগ্রহণকারী আল ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ বলেন, "বর্তমানে দেশে ডেঙ্গুর ভয়ংকর অবস্থা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে সাধুবাদ জানাই।"
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “আজকের এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আমরা যদি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন না হই, তাহলে আমাদেরও এর ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। এটিকে বাংলাদেশের অন্যতম একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই, যা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় অনুসরণ করবে। আমরা এই ক্যাম্পাসকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তর করতে চাই।”
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সরকারের ঘোষিত তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।