দীর্ঘ আট মাসের বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার পরপরই আবারও ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)। চালু হওয়ার মাত্র দুদিনের মাথায় (৪৮ ঘণ্টা) বয়লারে আকস্মিক লিকেজ (ছিদ্র) দেখা দেওয়ায় থমকে গেছে ইউরিয়া সারের উৎপাদন।
আজ বৃহস্পতিবার (৮অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যমুনা সার কারখানার ডিজিএম (এডমিন) দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে,সব ধরনের যান্ত্রিক প্রস্তুতি শেষে গত মঙ্গলবার রাতে কারখানায় উৎপাদন পুনরারম্ভ হয়েছিল। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই বয়লারে টেকনিক্যাল ত্রুটি ও লিকেজ ধরা পড়ে। ডিজিএম (এডমিন) দেলোয়ার হোসেন জানান, "কারখানার সার্বিক ইউনিট সচল রয়েছে এবং অ্যামোনিয়া উৎপাদন অব্যাহত আছে। শুধু বয়লারে সামান্য ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ইউরিয়া সার তৈরি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। টেকনিশিয়ানরা কাজ করছেন; আশা করা যাচ্ছে আগামী ১থেকে ২ দিনের মধ্যে লিকেজ মেরামত করে পুনরায় উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হবে।"
আগের নিউজ পড়ুন : দীর্ঘ-প্রতীক্ষার-অবসান-উৎপাদনে-ফিরল-যমুনা-সার-কারখানা-২০-জেলায়-স্বস্তির-নিঃশ্বাস
উল্লেখ্য,বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন এই মেগা কারখানাটি দেশের কৃষি খাতের এক প্রাণকেন্দ্র। জামালপুর,শেরপুর,ময়মনসিংহ,টাঙ্গাইল এবং উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় প্রায় ১,৯০০ নিবন্ধিত ডিলারের মাধ্যমে সার সরবরাহ করে থাকে জেএফসিএল। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ থাকলে এটি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন করে, যা থেকে সরকারের প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা আসে। বিপরীতে,কারখানা বন্ধ থাকলেও যন্ত্রাংশ সচল রাখতে প্রতি মাসে গুণতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকার গ্যাস বিল।
দৈনিক ১,৭০০ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতার এই কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক সমস্যায় জর্জরিত। এর আগে গ্যাস সংকট ও নানা ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২৩ মাস উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি আবারও গ্যাস সংকটে কারখানাটি অচলাবস্থায় পড়ে। দীর্ঘ ৮ মাস পর গ্যাস সংযোগ পেয়ে চলতি সপ্তাহে কারখানাটি চালুর স্বপ্ন তৈরি হলেও মাত্র দুদিনের মাথায় এই আকস্মিক বিপর্যয়ে আঞ্চলিক সার সরবরাহে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।