নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার
কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া ভূতপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ ঢালাই চলাকালে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় বাড়ির মালিক ইউনুচ (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ইউনুচ ওই এলাকার মৃত নুরুল আলমের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে চাকমারকুল মৌজার ১৮৩০ ও ৩৮৭০ নম্বর দলিলে তিন গণ্ডা জমি ক্রয় করেন ইউনুচ। পরে তাঁর নামে ৪৯৩১ নম্বর সৃজিত খতিয়ান হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে রেখে সম্প্রতি সেখানে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন তিনি। পিলারসহ নিচতলার কাজ শেষ করে মঙ্গলবার সকালে ছাদ ঢালাই শুরু করা হলে হঠাৎ দেশীয় অস্ত্রসহ অর্ধশতাধিক লোক নির্মাণস্থলে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের হাতে রামদা, লোহার রড ও হাতুড়ি ছিল। তারা নির্মাণাধীন ভবনসহ আশপাশের কয়েকটি ঘরে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালায়। টানা প্রায় দুই ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়ে নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমিকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায় তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলায় নেতৃত্ব দেন স্থানীয় ইসলাম মাস্টারের ছেলে হাবিবুর রহমান। তাঁর সঙ্গে আলম, আমান উল্লাহ, আশিকুর রহমান রনি, রিদুয়ান, আজিজুল হক, সিরাজুল হকসহ আরও অনেকে এবং বহিরাগত ভাড়াটে লোক অংশ নেয়। হামলার সময় দেড়শ বস্তা সিমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী লুট করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ঢালাই মাঝি কাইয়ুম উদ্দিন নয়ন বলেন, “সকালে সব প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করতেই হঠাৎ অর্ধশতাধিক লোক হামলা চালায়। তারা শ্রমিকদের মারধর করে মিক্সার মেশিন, নজেল, বেলচা, কড়াইসহ সবকিছু নিয়ে যায়। এছাড়া আটটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং মেশিন ভেঙে ফেলে।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাদ ঢালাইয়ের সেন্টারিং কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ঢালাই মেশিনটি টুকরো টুকরো করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পুরোনো বাড়িসহ আত্মীয়স্বজনের ৩-৪টি ঘরেও হামলার চিহ্ন রয়েছে।