রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বিয়ের ৮ বছর পর তথ্য গোপন করে সেনাবাহিনীতে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। অপরদিকে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিবাহিত ওই নারীকে পুলিশ ভেরিফিকেশনে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত তরুণী উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের লহনী গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে মোছা. আফছানা মিমি। তরুণীর স্বামী একই উপজেলার পায়রাবন্দ সদরপুর গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম।
জানা যায়, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সৈনিক পদের জন্য আবেদন করেন প্রার্থীরা। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অবিবাহিতদের আবেদনের কথা উল্লেখ থাকলেও বিয়ের তথ্য গোপন করে সৈনিক পদে আবেদন করেন আফছানা মিমি। অভিযোগ উঠেছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশ প্রতিবেদনে মিমিকে অবিবাহিত দেখান তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযুক্ত আফছানা আক্তার মিমি বর্তমানে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে প্রশিক্ষণে রয়েছেন।
অভিযুক্ত তরুণীর স্বামী খায়রুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এসএসসি পাস করার পর গাজীপুরের হাতীমারা কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি করিয়ে দেন স্ত্রী আফছানা মিমিকে। এরপরই তার অবাধ্য হয়ে জীবনযাপন শুরু করেন তিনি। অনেক চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় ২০২৩ সালে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন স্ত্রীকে। তারপর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। গত তিন বছরে একাধিকবার বিচার-সালিশেও সমাধান মেলেনি। এর মধ্যে তাকে না জানিয়ে গোপনে সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগ দেন স্ত্রী। এ কারণে বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল তাকে তালাক দিয়েছেন বলে জানান খায়রুল।
অভিযুক্ত তরুণীর মা রুপালী বেগম বলেন, তার মেয়ে অনেক ছোট থাকতেই খায়রুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। খায়রুল তার মেয়েকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করতেন। সেনাবাহিনীর চাকরির জন্য আবেদন করার পর তার মেয়ের চাকরি হয়ে যায়। তার মেয়ে এখন সিরাজগঞ্জে প্রশিক্ষণে আছেন। তাঁরা চাকরি হওয়ার কথা কাউকে জানাননি। এমনকি বাড়ির আশপাশের লোকজনও বিষয়টি জানেন না।
১ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদনে অবিবাহিত দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা এত টাকা দেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিয়ম অনুযায়ী ৪ হাজার টাকা দিয়েছেন। খায়রুলের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হলেও কাবিননামা হয়নি। এ কারণে কোনো সমস্যা নেই। বিয়ের বিষয়ে কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না। এ সময় প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন অভিযুক্ত তরুণী আফছানা মিমির মা রুপালী বেগম। এদিকে, অভিযুক্ত তরুণী আফছানা মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিবাহিত নারীকে পুলিশ ভেরিফিকেশনে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ডিএসবির ওই এসআইয়ের তথ্য জানতে চাইলে রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন গোপনীয় বিষয়। ভেরিফিকেশন করা কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ নেই। তিনি কয়েক দিন আগেই ডিএসবির অতিরিক্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।