নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার
“বিএনপি জনরায়কে অবজ্ঞা করে ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করছে”
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ১২ এপ্রিল বিকাল ৫টায় শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি কালুর দোকান পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে শুরু হয়ে কক্সবাজার পাবলিক হল মাঠে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ১১ দলীয় জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শত শত নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে সংস্কারের জন্য দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে বিজয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। প্রায় সত্তর শতাংশ মানুষের মতামতকে অবজ্ঞা করে ক্ষমতার জোরে দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সংসদে জ্বালানি সংকট নেই বলা হলেও বাস্তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের পর জনগণ আশা করেছিল দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে।
নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময় থাকতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যথায় জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে শাসন কাঠামোর পরিবর্তন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে এবং জনরায়কে অবজ্ঞা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, “শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই বিপ্লবে মানুষ জীবন দেয়নি; একটি মৌলিক পরিবর্তনই ছিল লক্ষ্য। সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যে জুলাই সনদ প্রণীত হয় এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে গণভোটের রায় অস্বীকার করা গ্রহণযোগ্য নয়। আর কোনো রক্তক্ষয় নয়—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যথায় রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— এনসিপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইউনূস, জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, এনসিপি জেলা সদস্য সচিব অধ্যাপক ওমর ফারুক, এলডিপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, কক্সবাজার শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর শহিদুল আলম বাহাদুর, এনসিপি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রাইয়ান কাশেম প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, এনসিপি জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ সাঈদ, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, সেক্রেটারি আজিজুর রহমান এবং রামু উপজেলা সেক্রেটারি আ ন ম হারুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।