টানা ৩০ ঘন্টা ধরে জ্বললো আমেরিকার গর্বের রণতরী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মার্কিন নৌবাহিনীর গর্বের প্রতীক এবং বিশ্বের অত্যাধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এখন যেন এক চলন্ত নরক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একের পর এক সামরিক অভিযানের চাপে পিষ্ট এই জাহাজটিতে গত সপ্তাহে লাগা ভয়াবহ আগুন নেভাতে সময় লেগেছে দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা।
রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসের দীর্ঘ এবং সম্ভবত সবচেয়ে ‘অভিশপ্ত’ মোতায়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার জাহাজের মূল লন্ড্রি রুমে একটি ড্রায়ার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেই আগুন নেভাতে নাবিকদের ঘাম ছুটে গেছে টানা ৩০ ঘণ্টা।
•
আগুনে জাহাজের খুব একটা কৌশলগত ক্ষতি না হলেও, নাবিকদের কপাল পুড়েছে আক্ষরিক অর্থেই। আগুনে প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের বিছানা ও থাকার জায়গা হারিয়েছেন। এখন তাদের রাত কাটছে জাহাজের ডাইনিং টেবিল কিংবা ঠান্ডা মেঝেতে।
সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দুজন নাবিক সামান্য আহত হলেও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কয়েক ডজন সেনা। সবচেয়ে ট্র্যাজিক ব্যাপার হলো, লন্ড্রি পুড়ে যাওয়ায় নাবিকদের এখন ময়লা কাপড় পরেই দিন কাটাতে হচ্ছে।
টানা ১০ মাস ধরে সমুদ্রে ভাসছে এই বিশালাকৃতি রণতরী। ভূমধ্যসাগর থেকে শুরু করে ভেনিজুয়েলার ‘চাপ’ সৃষ্টি করতে ক্যারিবিয়ান সাগর, আর এখন ইরান যুদ্ধের ময়দান- কোথাও বিরাম নেই এর। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মে মাস পর্যন্ত একে সমুদ্রে থাকতে হবে।
•
যদি এপ্রিলেও এটি তীরে না ফেরে, তবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এটিই হবে দীর্ঘতম বিরতিহীন মিশন (২৯৪ দিনের রেকর্ড ভাঙবে)। সাধারণ নিয়মে ৬ মাসের বেশি মোতায়েন থাকলে নাবিক ও জাহাজ উভয়েরই দম ফুরিয়ে আসে, আর ফোর্ডের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে দ্বিগুণ।
পেন্টাগনের সাবেক মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল জন কিরবি বলেন, জাহাজও ক্লান্ত হয়, একটানা ব্যবহারে সেটারও শরীর ভেঙে পড়ে। ফোর্ড বর্তমানে চব্বিশ ঘণ্টা যুদ্ধবিমান ওড়ানোর কাজ করছে, অথচ এর নিজস্ব পরিকাঠামো এখন জরাজীর্ণ। এর আগে জাহাজের ৬৫০টি টয়লেট নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলো প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়। নতুন এই আগুন যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।
যুদ্ধের কারণে জাহাজটি বর্তমানে ‘ডার্ক মোড’-এ রয়েছে, অর্থাৎ নাবিকদের বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নৌসেনারা জানিয়েছেন, তারা এখন চরম সীমার মধ্যে বসবাস করছেন। যদিও পেন্টাগন দাবি করছে জাহাজের প্রপালশন সিস্টেম বা মূল শক্তি ঠিক আছে, তবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভার্জিনিয়া বন্দরে ফেরার কথা থাকলেও তা ট্রাম্পের যুদ্ধের প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
•
মার্কিন রণতরীটি এখন এক ক্লান্ত ঘোড়ার মতো, যার পিঠে চড়ে যুদ্ধের ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প। তবে স্বস্তির খবর হলো, শিগগিরই ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ রণতরীটি এই ক্লান্ত ‘ফোর্ড’-কে মুক্তি দিতে মধ্যপ্রাচ্যে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
•