সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সাদাপাথর লুটের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক আলোচিত বিএনপি নেতা, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তবে এই ঘটনার জেরে এবার সরাসরি দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্ত নেতার পক্ষে বিবৃতি দেওয়ায় জেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি। এই ঘটনা কেবল একটি আইনি মামলার বিষয় নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের এক জটিল পরীক্ষা।
উপজেলা বনাম জেলা
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল মন্নান ও সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সম্প্রতি গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন, যেখানে তারা গ্রেপ্তার হওয়া নেতা সাহাব উদ্দিনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। তাদের এই পদক্ষেপ জেলা বিএনপির নেতাদের ক্ষুব্ধ করে। সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে দলীয় নীতি ও আদর্শবিরোধী কাজের অভিযোগ থাকায় আগেই তার পদ স্থগিত করা হয়েছিল। এই অবস্থায় তার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়াকে জেলা বিএনপি সরাসরি 'দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল' বলে আখ্যা দিয়েছে।
জেলা বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত বহাল থাকা সত্ত্বেও দুই নেতার এমন কর্মকাণ্ড দলের আদর্শের পরিপন্থী। তাদেরকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই জবাবের ওপরই নির্ভর করছে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
পাথর লুট, র্যাব ও পদ স্থগিতের আখ্যান
সাদাপাথর লুটের ঘটনায় সাহাব উদ্দিনের গ্রেপ্তার একটি দীর্ঘ বিতর্কের চূড়ান্ত ফল। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০ একর সরকারি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এই জমি উদ্ধারে অভিযানও চালিয়েছিল। গত শনিবার রাতে র্যাব-৯ তাকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে এবং সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘সাদাপাথর লুটপাটের মূলহোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
এই পুরো ঘটনা প্রবাহে যা স্পষ্ট, তা হলো দলীয় পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কেন্দ্র কঠোর অবস্থান নিলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার সমর্থন এখনো বহাল। দুই নেতার এই সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করে, দলের ভেতরকার বিভাজন অনেক গভীরে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এই রাজনৈতিক নাটক কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাহাব উদ্দিনের মামলাটি এখন কেবল আইনি বিষয় নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়েরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।