দীর্ঘ ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর আবারো খুলে দেওয়া হয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ঐতিহাসিক সুলাইমানিয়া তাকিয়া মসজিদ। গত শনিবার মসজিদটি পুনরায় উদ্বোধন করা হয়েছে। সংস্কার ও পুনর্বাসনকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী (আওকাফ) মুহাম্মদ আবুল খাইর শুকরি মসজিদটির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ, সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী, দামেস্কের গভর্নরসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং দামেস্কের সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে মসজিদটি পুনরায় চালু করা হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী শুকরি বলেন, আজ আমরা এমন একটি সাংস্কৃতিক নিদর্শন, শিক্ষামূলক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করছি, যা নিয়ে সমগ্র শাম অঞ্চল গর্বিত। এটি কেবল একটি মসজিদ নয়, এর থেকেও বেশি কিছু।
তিনি বলেন, দামেস্কের ওয়াকফ ব্যবস্থা প্রায় ৫০০ বছর ধরে সামাজিক সংহতি, অভাবগ্রস্তদের খাবার সরবরাহ এবং হাজিদের কাফেলাগুলোর সেবার এক জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করে আসছে। মসজিদগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করা, সেগুলোর শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রম সচল রাখা এবং পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের উপযুক্তভাবে প্রস্তুত করা এসবই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সংস্কৃতিমন্ত্রী মুহাম্মদ ইয়াসিন আস-সালেহ বলেন, সুলাইমানিয়া তাকিয়া মসজিদের পুনরায় উদ্বোধন পুনরুদ্ধার ও পুনর্জাগরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে দামেস্ক ও সিরিয়ার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোতে আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে। আস-সালেহ জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে কর্মরত সব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
সুলাইমানিয়া তাকিয়া কমপ্লেক্সটি ষোড়শ শতাব্দীতে উসমানীয় সুলতান সুলায়মান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের শাসনামলে নির্মিত হয়। এর নকশা প্রণয়ন করেন বিখ্যাত স্থপতি মিমার সিনান। কমপ্লেক্সে আছে একটি মসজিদ, একটি মাদরাসা, হাজিদের জন্য অতিথিশালা এবং একটি লঙ্গরখানা। দীর্ঘদিন ধরে এটি দামেস্কে ধর্মীয় শিক্ষা ও দাতব্য কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। সংস্কারের আগে মসজিদটি টানা ১৫ বছর বন্ধ ছিল।
সূত্র: সানা