১৮ বছর বয়সী জার্মান পর্যটক কিরিল ল্যান্ডার-ওয়েবারের চুরি হওয়া ব্যাগ ও ল্যাপটপ ঘটনার পর এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বগুড়ার দর্শনীয় স্থান ঘুরে বুধবার (৭ অক্টোবর) সান্তাহার থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসে করে নাটোরে পৌঁছানোর পর এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতারণার শিকার হন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও ব্যক্তিগত কাগজপত্র হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে নাটোর সদর থানাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বিদেশি তরুণ।
যেভাবে ঘটল চুরির ঘটনা
রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, নাটোরে নেমে টাকা তোলার জন্য প্ল্যাটফর্মের কাছের একটি এটিএম (ATM) বুথের দিকে যাচ্ছিলেন কিরিল। এ সময় প্ল্যাটফর্মের ওয়েটিং রুমে হলুদ রঙের কটি পরিহিত এক যুবক তার মুখোমুখি হয়। ওই যুবক নিজেকে রেলওয়ের স্টাফ পরিচয় দিয়ে অত্যন্ত কৌশলে কিরিলের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ব্যাগটি দেখে রাখার आश्वासन দিলে সরল বিশ্বাসে তা তার কাছে রেখে বুথে যান কিরিল। ফিরে এসে দেখেন, ব্যাগসহ ওই ব্যক্তি উধাও।
কান্নাভেজা কণ্ঠে জার্মান পর্যটক কিরিলের আকুতি
থানায় বসে কান্নাভেজা কণ্ঠে জার্মান পর্যটক কিরিল ল্যান্ডার বলেন, "আমি বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষকে ভালোবেসে এখানে ঘুরতে এসেছি। বগুড়ার মানুষ আমাকে অনেক সাহায্য করেছে, খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু নাটোরে এসে যে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হব, তা কখনো ভাবিনি। ব্যাগে আমার ল্যাপটপ আর ক্যামেরা ছাড়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র ও নথিপত্র আছে, যা হারিয়ে আমি এখন পুরোপুরি অসহায়। আমি বাংলাদেশ পুলিশের ওপর ভরসা রাখছি, আশা করি তারা আমার জিনিসগুলো দ্রুত উদ্ধার করে দেবে।"
সিসিটিভি ফুটেজে চুরির কৌশল
স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে police জানিয়েছে, সখ্যতা জমানোর পর সুযোগ বুঝে নিজের কটিটি খুলে তার ভেতরে কিরিলের মূল্যবান ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগটি লুকিয়ে ফেলে অভিযুক্ত যুবক। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে স্টেশন থেকে সটকে পড়ে সে। ব্যাগে কিরিলের অ্যাপল ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ (مَاک بُوک), ক্যামেরা ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্র ছিল।
প্রযুক্তির সাহায্যে লোকেশন শনাক্ত
ঘটনার পরপরই কিরিল তাঁর ল্যাপটপের আইক্লাউড (iCloud) ট্র্যাকিং技术的 সাহায্য নেন। ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, তাঁর চুরি হওয়া ডিভাইসের সর্বশেষ লোকেশন বুধবার সন্ধ্যায় প্রথমে নওগাঁ এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে শনাক্ত হয়েছে।
পুলিশের তৎপরতা ও সর্বশেষ অগ্রগতি
এই চুরির ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনছুর আহমেদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজশাহীর নির্দিষ্ট লোকেশনগুলো নিশ্চিত করে পুলিশের বিশেষ দল ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে নাটোরে ভালো আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় এবং বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত রাতেই কিরিলকে পুলিশ পাহারায় রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানা ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে মালামাল দ্রুত উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।