,

রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এক বছরের সাফল্য

রাফিউল ইসলাম(রাব্বি) স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য ইতোমধ্যে ৫৫৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন ধারায় মোট ৩০৮টি মামলা দায়ের সম্পন্ন হয়েছে। রংপুর মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশ ।
জটিল ও কঠিন মামলার জট খুলে রহস্য উম্মোচন করে দীর্ঘ মেয়াদী মামলাকে করেছে সংক্ষিপ্ত। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইনসহ মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। একের পর এক সাঁড়াশি অভিযানে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে মাদকের আস্থানা।
অপহৃত নবজাতক উদ্ধার, দেশী-বিদেশী টাকা, চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধারসহ রয়েছে নানা সাফল্য। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক বছরে ডিবি পুলিশের এমন সাফল্যে তাদের সাধুবাদ জানিয়েছে নগরবাসী। তাইতো অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের (আরপিএমপি) কাছ থেকে ৪ বার শ্রেষ্ট পুরুস্কারসহ মোট ৬ বার পেয়েছে পুরুস্কার। ফলে চৌকশ কর্মকর্তাদের হাত ধরে এগিয়ে চলেছে ডিবি পুলিশ।
আরপিএমপি ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর মহানগরীতে তরুণ যুব সমাজকে ধ্বংস করতে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আগতরা এসে বিভিন্ন সময় মাদকের ঘাটি তৈরীর চেষ্টা করেছে। তাছাড়াও আন্তঃজেলা ডাকাত, ছিনতাইকারী, প্রতারকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও সর্বক্ষণ তৎপর রয়েছে।
এছাড়াও মাদক বিরোধী এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী গণসচেতনতা তৈরী করেও সফল হয়েছে ডিবি পুলিশ। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে প্রায় প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য এবং আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী, পাঁচারকারী এবং মাদকসেবী যা অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ডিবি পুলিশের পরিসংখ্যান সূত্রে আরোও জানা গছে, পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের তুলনায় বহুলাংশে এগিয়ে আরপিএমপি ডিবি পুলিশ।
গত ১ বছর তাদের প্রশংসনীয় কার্যক্রম সাফল্যমন্ডিত করে তুলেছে । অপহরণের চারদিনের মধ্যে অপহৃত নবজাতক উদ্ধার, ভারতীয় রুপি ও বাংলাদেশী ৩ লক্ষ ৭৭হাজার টাকা ও ৩২ লক্ষ টাকা মূল্যের এক ট্রাক প্লাষ্টিক উদ্ধার, মাদক বহন ও চোরাই ১৩টি মোটর সাইকেল, ৪ কেজি গাঁজা, ২৮ গ্রাম হেরোইন, ২৪০ বোতল ফেন্সিডিল, ৪৬৬৭ পিস ইয়াবা, ৭৩টি মোবাইলসহ নগদ ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭২৫ টাকা উদ্ধার করেছে। সবমিলিয়ে ৭৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ১২৫ টাকার বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার হয়েছে। আইনের আওতায় আনা হয়েছে বহু শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী, পলাতক আসামী, আন্তঃজেলা ডাকাত দল, ছিনতাইচক্রের সদস্য সহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রসহ বহু অপরাধীকে।
এ ব্যাপারে আরপিএমপি ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট যেমন আত্মতৃপ্তির, তেমনি কর্মস্পৃহা বাড়ানোর তাগিদপত্রও বটে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদ আমাদের কাজের মূল অনুপ্রেরণা। তাঁর চৌকস নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই কাজ করে যাবে ডিবি পুলিশ।আরপিএমপি সহকারী কমিশনার (ডিবি) আলতাফ হোসেন বলেন, পুলিশের ডিবি নতুন একটি ইউনিট। মোট ৩১জন জনবল নিয়ে ডিবি পুলিশ কাজ করছে। এখানে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার পরেও আন্তরিকতার সাথে আমরা কাজ করছি। অপহৃত নবজাতক উদ্ধারসহ অনেক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছি। মাদকসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবর্দা ডিবি পুলিশ নিজস্ব গতিতে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যা অব্যাহত থাকবে।

Comments are closed.