,

রংপুরে স্কুলছাত্র রশীদ হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২

রাফিউল ইসলাম(রাব্বি)স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর:

রংপুরে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থী আব্দুর রশীদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোজাফফর হোসেনসহ (২২) দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩। রংপুর-বদরগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-১৩ এর সদর দফতরের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বদরগঞ্জ সড়কের কাছ থেকে আব্দুল রশীদ হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মোজাফফরকে একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। মোজাফফর রংপুর মহানগরীর কেরানীপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে।’

এছাড়া, র‌্যাবের অপর একটি দল নগরীর হারাগাছ রোড সাহেবগঞ্জ মাছহাড়ি এলাকা থেকে নিশাদ আহমেদ জয় (২১) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করে। নিশাদ কেরানীপাড়া এলাকার জুয়েল আহমেদের ছেলে। সে ওই হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত তিন নম্বর আসামি।

র‌্যাব-১৩ অধিনায়ক আরও জানান, গত ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে নগরীর টেক্সটাইল মোড় এলাকায় পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলছাত্র শিশু আব্দুর রশীদকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার পর চলন্ত বাসের নিচে ফেলে দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে মোজাফফর ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় ৩০ আগস্ট ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা শহিদার রহমান।

এরআগে গত ৩১ আগস্ট এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আলামিন সরদার বাবু (২৫) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। পঞ্চগড়ের সুগার মিল এলাকা থেকে ১ সেপ্টেম্বর মামলার দুই নম্বর আসামি মন্টি হোসেনকে (১৯) গ্রেফতার করে নগরীর কোতয়ালি থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন জানিয়ে অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস বলেন, ‘আসামি মোজাফফর গ্রেফতার হওয়ার আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্নস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করেছে। আমাদের বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ঘটনার কয়েকদিন আগে রশীদের বড় ভাই অটোচালক মোহনের কাছে চাঁদা দাবি করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোজাফফর হোসেন। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় তাকে মারধর করে মোজাফফর। এ ঘটনার বিচার দাবি করে মোজাফফরের বাবা কামালের কাছে অভিযোগ করেন মোহন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোহনকে না পেয়ে শিশু আব্দুর রশীদকে কুপিয়ে আহত করে মোজাফফর।এরপর, গুরুতর আহত অবস্থায় রশীদকে একটি চলন্ত বাসের নিচে ফেলে দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

Comments are closed.