,

আল আমিনের ছোট গল্প–অসমাপ্ত প্রণয়!

————–
সন্ধার আরম্ভে চারপাশে অন্ধকারের আবছা ছায়া, আকাশে কালো মেঘের গর্জনে প্রাণীকুল দিশেহারা।
মাঝে মাঝে বইছে দমকা হাওয়া, আকাশটা ফুটো হয়ে ঝরছে আগুনের ফুলকি। অন্ধকার পৃথিবী যখন প্রকৃতির মায়াজালের শিকার, আবছা অন্ধকারে ‘রনক’ তখনো বসে আছে কাঁটাব্রিজে।আত্মরক্ষার তাগিদে ছুটে চলা অমিতের চোখে পড়ে একটা আবছা ছায়া!
হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে যায় অমিত। কারন ছোট বেলায় সে তার বাবার কাছে কাঁটাব্রিজে অনেক ভূতের গল্প শুনেছে । এখানে নাকি সন্ধায় ভূতের আড্ডা হয়। কথাটা মনে হতেই অমিতের শরীর শিউরে উঠে।
তাহলে কি ছায়াটা ভূতের?
না, অন্য কিছু?
ওদিকে আবার মেঘের গর্জন, হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় ভেসে উঠে মানুষ আকৃতির এক স্বাভাবিক দেহ। অমিতের ভয় এবার একটু কমেছে। সে আরেকটু এগিয়ে যায়। হঠাৎ বিদ্যুৎ আভায় অমিতের চোখে পড়ে রনকের মলিন চেহারা।

পিছন থেকে রনক তুই?
কে! প্রণয়নী ?
না, আমি অমিত। অমিত আর রনকের বন্ধুত্ব বাল্যকালের। একই স্কুলে তারা পড়েছে। আর প্রণয়নীর সাথে স্কুল জীবন থেকেই রনকের প্রণয়ের সম্পর্ক। এই কাঁটাব্রিজে পড়ন্ত বিকেলে প্রণয়নীর সাথে প্রতিনিয়তই রসায়ন হতো।
মাঝে মাঝে সঙ্গ দিত অমিত।দারিদ্র্যতার কষাঘাতে পড়ে রনকের আর লেখাপড়া হয়নি। ঐদিকে আবার প্রণয়নীও তখন অন্যের মায়াজালে আটকে যায়। আর অমিত উচ্চ শিক্ষার জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যায়। এর মধ্যে অমিতের আর কোন যোগাযোগ হয় নি রনকের সাথে। আজ দশ বছর পর রনকের মুখ ভর্তি দাঁড়ি, মলিন চেহেরা আর প্রণয়নী নামটা শুনে অমিত দুঁফোটু চোখের জল ফেলছে আর কথা গুলো ভাবছে।
রনক তার বাল্যবন্ধু অমিতের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর বলছে আমার প্রণয়নীর কোন খবর জানিস অমিত?
এখনো তুই সেই প্রণয়নীর জন্য বসে থাকিস এখানে?
হ্যা, অমিত! প্রণয়নী আমায় কথা দিয়ে ছিল প্রণয়ের সমাপ্তির দেখা এখানেই হবে।
রনক ইদানিং অনেকটাই পাগলেরর মত হয়ে গেছে।এখনো কাঁটাব্রিজে বসে প্রণয়নীর অপেক্ষায় বসে থাকে। গত দশ বছর ধরে এভাবেই অপেক্ষার প্রহর গুনছে।যেন তার দৃষ্টি জুড়ে প্রণয়নীর আর্তনাদ।
রনক বাড়িতে চল,? এখানে অনেক অন্ধকার আর এক্ষুনি বৃষ্টি আসবে। আকাশের অবস্থা ভাল নয়।
আমি অন্ধকারেই আমার প্রণয়নীকে খুঁজে পাব।এক্ষুনি আসবে প্রণয়নী।
রনক পাগলামী করিস না। আকাশের অবস্থা ভাল নয়। এক্ষুনি ঝড় আসবে!
অমিত তুই চলে যা, আমার প্রণয়নীর আসার সময় হয়েছে। প্রণয়নীর সাথে বসে আমি প্রেমকাব্য রচনা করবো।এই তো আসছে প্রণয়নী!
অমিত চোখ মুছতে মুছতে চলে যায়।
আর রনক বসে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনছে——–

————–
মোঃ আল আমিন
সাংবাদিকতা বিভাগ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments are closed.