,

কাপাসিয়ায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ চরমে

কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে শামসুল হুদা লিটনঃ

প্রচন্ড তাপদাহ ও গরমের মাঝে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কাপাসিয়াবাসি অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের অভাবে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দিন দিন যেন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবনতি ঘটছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সকল চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে বহাল তবিয়তে পল্লী বিদ্যুতের পুরনো চিত্র। দিনে প্রায় প্রতিদিন ৫/৭ ঘন্টা লোডশেডিং দিয়ে বাড়তি সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, উপজেলার সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক-বীমা, বিপনী বিতাণ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্রসহ প্রত্যন্ত পল্লী গ্রামের সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও পরিক্ষার্থীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কোন কারন ছাড়াই বিদ্যুতের ঘন ঘন এমন যাওয়া-আসার ভেলকিবাজিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনসাধারণের সুবিধার কথা চিন্তা করে পল্লী বিদ্যুতের এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন পর্যায় থেকে বার বার তাগাদা দেয়া সত্বেও কোন কাজ হচ্ছে না। শুরুর দিকের সেই পুরনো কারিগরি সহায়তায় চলছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ। মাঝে-মধ্যে সঞ্চালন লাইন মেরামতের নামে মাইকিং করে দিনব্যাপী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে। চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও স্থানীয় অফিস রহস্যজনক কারনে লোডশেডিংয়ের কথা বলে ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধ রাখছে।সম্প্রতি উপজেলা ব্যাপী সঞ্চালন লাইনের আশপাশ থেকে ব্যাপক ভাবে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-পালা কেটে ফেলা হয়েছে। সুবিধাভোগী মানুষের আশা ছিল গাছ কাটার ফলে হয়তো বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি হবে। কিন্ত যথায়তথা, কোন কাজ হয়নি। সাধারণ মানুষের প্রতি পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের নুন্নতম দায়িত্ববোধ নেই বললেই চলে। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকতা-কর্মচারীদের মনগড়া আচরন ও আইনের মারপ্যাঁচ দেখিয়ে দিন দিন তাদের দৌরাত্ব বাড়ছেই। ফলে ছোট বড় পোল্ট্রি ও ডেইরী খামার, ওয়ার্কশপ এবং বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট নানামূখি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে বিদ্যুৎ চালিত অনেক জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অসহ্য গরম ও সীমাহীন লোডশেডিংয়ের কারনে স্বস্তি মিলছে না কোথাও। এছাড়াও দিনের পর দিন বিদ্যুৎ লাইনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান না হওয়া, মিটারসংক্রান্ত জটিলতা ও বিলসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে গ্রাহক হয়রানি এখন চরমপর্যায়ে পৌঁছেছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের লোকজন অসহনীয় গরমে নির্ঘুম রাত পোহাচ্ছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে মধ্যরাতেও ভেসে আসছে অবুঝ শিশুদের আর্তচিৎকার। বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ্য লোকজন অসহ্য গরমে অসহায় হয়ে পড়েছে। পিক আওয়ার না হয় মেনে নেয়া যায়, কিন্ত মধ্যরাতের অফপিক আওয়ারে বিদ্যুতের লোডশেডিং কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আকাশে মেঘ বা হালকা ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসে কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিচ্ছে। এরুপ পরিস্থিতিতে হালকা বৃষ্টিপাতের পরে ভ্যাপসা গরমে জনমনে নাভিস্বাস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।দেশে আসা অনেক প্রবাসীরা জানান, তারা দেশে এসেছেন একটু শান্তিতে কয়েকটা দিন কাটাবেন বলে। কিন্তু এখানে আসার পর তাদের অশান্তিটা যেন আরো বেড়ে গেছে। দেশে এসে লোডশেডিংয়ের কারনে পরিবার পরিজনদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।উপজেলার সর্বত্র পল্লী বিদ্যুতের নানা অপকর্ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। তাই কাপাসিয়া বাসির দাবী জনগনের প্রতি দ্বায়বদ্ধতা স্বিকার করে সম্পূর্ণ সেবার মনোভাবে যেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিস কাজ করে। পুরনো কারিগরি পদ্ধতি বাদ দিয়ে সঞ্চালন লাইনের আধূনিকায়ন করে সর্বস্তরের মানুষের আস্তা-বিশ্বাস ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে যেন তারা সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সর্বক্ষেত্রে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিতের ঘোষনার বাস্তবায়ন ঘটানোর প্রচেষ্টা যেন অব্যাহত থাকে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সর্বক্ষেত্রে সবসময় বিদ্যুৎ থাকা খুবই জরুরী। তাই এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে আরো বেশী সচেষ্ট হওয়াও জরুরী।এব্যাপারে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, কাপাসিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আবু মোঃ ইয়াহিয়া আকন্দ জানান, বর্তমান সরকারের ঘোষনা অনুযায়ি প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। দিন দিন বিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে ৯২ হাজার হয়েছে। কাপাসিয়ার চাহিদা মোতাবেক ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেলেও সিস্টেমলস এবং কারিগরি ত্রুটির কারনে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছেনা। ঝড়-বৃষ্টিতে সঞ্চালণ লাইনের আশপাশের গাছপালার কারনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হয়। তাই কোন কোন ক্ষেত্রে গাছের ডালপালা কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। খুব শীঘ্রই বিদ্যুতের লোডশেডিং অনেকাংশে কমে আসবে বলে ডিজিএম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Comments are closed.