ঢাকাবুধবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৪
  1. সর্বশেষ

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাদ্য ও রক্ষীদের রেশনে ব্যাপক দুর্নীতি

প্রতিবেদক
নিউজ এডিটর
৯ মার্চ ২০২৩, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

মোঃ শিবলী সাদিক, রাজশাহী।

রাজশাহী সাহেববাজারে মুদি দোকানদার হুমায়ুন রাত্রি সাড়ে আটটার সময় মোহনপুরে আটক মালামালের প্রত্যায়ন নিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে কোন সংবাদ করতে বারন করেন তিনি।

এ বিষয়ে জেল সুপার আবদুল জলিলের সাথে কথা বলার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তবে তার বিষয়ে অনুসন্ধানে অনেক চাঞ্চল্য তথ্য বেরিয়ে আসে। যা নিম্নে বর্ননা রয়েছে।

অনুসন্ধানে কারারক্ষীদের রেশন থেকে কিভাবে জেল সুপারের নেতৃত্বাধীন এ জেলার সিন্ডিকেট টাকা আয় করে এর একটি বিশদ বর্ণনা পাওয়া গেছে। একজন কারারক্ষী এ প্রসঙ্গে বলেন, অবিবাহিত কারারক্ষী প্রতি মাসে ১১ কেজি চাল, ১২ কেজি গম, সাড়ে ৩ কেজি ডাল, আড়াই কেজি তেল ও পৌনে ২ কেজি চিনি পাওয়ার কথা। কিন্তু এ রেশন তারা পান না। কারারক্ষীদের বলা হয়, চাল-ডাল ভালো না। কিনে খান। নামকাওয়াস্তে অবিবাহিত কারারক্ষীদের রেশন বিক্রির নগদ অর্থ ধরিয়ে দেয়া হয়। ওই সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে কারারক্ষীদের বলা হয়, রেশনের প্রতি কেজি চালের বাজার মূল্য ৩৬ টাকা, গম ২৬ টাকা, ডাল ১শ’ টাকা, তেল ১শ’ টাকা এবং চিনি ১শ’ টাকা।কিন্তু বাস্তবে যে টাকা দেয়া হয় তা হচ্ছে- প্রতি কেজি চাল ১৮ টাকা, গম ১৬ টাকা, ডাল ৭০ টাকা এবং চিনি ৪০ টাকা।

একাধিক কারারক্ষী জানান, কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি বড় পুকুর আছে। ওই পুকুরের মাছ বন্দিদের পেটে যায় না। সেগুলো বিক্রি করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা নেন সিন্ডিকেট সদস্যরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে চাকুরী করা কালীন সময়ে সেখানকার সীমানার বাইরে জেল সুপার আবদুল জলিলের ছোট ভাই আবদুল কাদের বাদশার নামে একটি জমি পাওয়া যায়। ঝিনাইদহের গ্রামের বাড়ি থেকে সিলেটের বাঁধাঘাটে ধুপনীখোলা মৌজায় সাড়ে তিন শতক জমি কেনার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এ দলিল সম্পাদন হয়। ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন উত্তর বাগবাড়ীর হাজী মো. শফিক মিয়ার কাছ থেকে এ জমি কিনে নেন তিনি। কিন্তু এ জমির পেছনে একটি লেনদেনের হিসাব রয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, আবদুল জলিল সমাজসেবা অফিসার হিসেবে প্রথম চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর ২০১০ সালে বিসিএস তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবেও তার চাকরি হয়। সমাজসেবা অফিসার হিসেবে এক সময় তিনি গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় কারারক্ষীদের সঙ্গে তার একটা সংযোগ হয়। তাদের কাছ থেকে জেল সুপারদের আয়ের একটা ধারণা পান তিনি। সেই ধারণা থেকেই তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তার চাকরি ছেড়ে দিয়ে জেল সুপার পদে যোগ দেন আবদুল জলিল। জেল সুপার পদে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পাল্লা ভারি হতে থাকে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার থাকা কালিন আব্দুল জলিলকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ নিয়ে কারা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ, অর্থের বিনিময়ে বন্দিদের অবৈধ সুবিধা, অর্থ লেনদেন এবং অবৈধ ক্যান্টিন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বিষয়েগত ২০২২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার খবরও মেলে অনুসন্ধানে।

106 Views

আরও পড়ুন