ঢাকাশনিবার , ২৮ জানুয়ারী ২০২৩
  1. সর্বশেষ

অপূর্ব সৌন্দর্যের নিদর্শন রামগড় চা বাগান

প্রতিবেদক
নিউজ এডিটর
৩০ ডিসেম্বর ২০২২, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ

Link Copied!

আহমেদ হানিফ।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা ”ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের বসুন্ধরা” এই গানের লাইনটি দ্বারা বাংলাদেশের চিরাচরিত রূপের যেমন বর্ণনা পাওয়া যায় তেমনি প্রাচুর্যের নিবেদনও সুস্পষ্ট।
সুজলা, সুফলা আমাদের বাংলাদেশ কতটা নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ তা শুধুমাত্র রসিক ও ভ্রমণ পিপাসুদের জানা সম্ভবপর।
পৃথিবীর বুকে বহু জনপদ বিরাজ করলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ সবার চেয়ে ভিন্ন, তাই গানে গানে গর্বের সহিত উপস্থাপিত হয় ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’।এদেশের বুক ছিঁড়ে যেমন বয়ে বেড়াচ্ছে শত শত নদনদী তেমনি পাহাড় ও সমতল এলাকায় রয়েছে নানান রঙের, ঢঙের স্থান।যেখানে আমাদের মননে যেমন ভালোবাসার আবেশন তৈরি করে তেমনি অনুপ্রাণিত করে সুন্দরে নিজেকে আবদ্ধ করতে।
তেমনি ভালো লাগার, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে নিজেকে জড়িয়ে রাখা এক স্থান সম্পর্কে বলবো-
পাহাড় আর সমুদ্র ভালো লাগেনা এমন মানুষের সংখ্যা নাই বললেই চলে,মানুষ অজানাকে জানতে চায়- অদেখার সন্ধানে ছুটে চলে মাইলের পর মাইল।তেমনি নতুন সৌন্দর্যের অবগাহন ও শান্তির ছোঁয়ায় নিজের চোখগুলোকে নতুনত্বের আমেজ দেওয়ার প্রত্যয়ে গেলাম উচু নিচু টিলার বুক ছিঁড়ে জেগে উঠা রামগড় চা বাগান দেখতে।
দুইটি পাতা একটি কুড়ি এই নিয়ে চা বাগান, নিত্যকার আড্ডায় চা না হলে যেমন আড্ডা জমে না।তেমনি চা বাগানকে নিয়েই আবর্তিত হয় নানান গল্প,প্রেম গাঁথা কিংবা বেদনার নানা আয়োজন।
এবার আসি মূল আয়োজনে-
রামগড় চা বাগান
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা বাগানবাজার অংশ জুড়ে এই চা বাগানের অবস্থান।১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ১৪০০ একর আয়তনের এই চা বাগানে চা প্লান্টেশন রয়েছে প্রায় ৮০০ একরেরও বেশি। বাগানটিতে রয়েছে শত শত বড় ছায়াবৃক্ষ।
ছায়া বৃক্ষ গুলো ছায়া দানের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখে সবুজ প্রাণের স্পন্দনকে।উঁচু নিচু টিলার বুকে সারি সারি চা গাছের মধ্যে যেমন সম্প্রীতির বার্তা রয়েছে তেমনি চা বাগানের পাশ গুলোতে বাঙালি, ত্রিপুরা ও চা শ্রমিকদের সহাবস্থান অপূর্ব সম্প্রীতির মেলবন্ধন রচনা করেছে। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বাড়ি গুলো দেখতে পেলাম সমতলীয় বাঙালি মুসলমানদের বাড়ির আদলে তৈরি। মাটির দেওয়ালের উপর টিনের ছাউনির ঘর গুলো দেখলে বুঝার উপায়ই নেই এটা কোনো ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বাড়ি হতে পারে।বাগানের ভিতরে চা শ্রমিকদের ঘরগুলো ঠিক মাটির হলেও মাটির নরম আস্তরণে সোজা সোজা টানের চমৎকার কারুকাজে জানান দেয় তারাও সংস্কৃতির চর্চায় পিছিয়ে নেই।
রামগড় চা বাগানের ভিতরে বাংলোটা অতিক্রম করে একটু সামনে এগোলেই চোখে পড়বে চমৎকার একটা লেকের।নয়ন জুড়ানো জলের বুকে মাছের সরব উপস্থিতি কিংবা হাঁসের খেলা করা যে কোনো ভ্রমণ পিপাসুদের নজরে নতুনত্ব সৃজন করবে। লেকের চারপাশের নারিকেল গাছের সারিগুলোর সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করতে বাধ্য করবে।
চা বাগানের ভিতরে ছোট ছোট কতগুলো দোকানে মানুষের সরব উপস্থিতির মাধ্যমে যেমন চা চক্র চলে ঠিক বিকালের আলস্য ভাঙার উপাদেয় চা এর আয়োজন নিয়ে বসেছে মালকিন।বাগান ও বাগান সংশ্লিষ্ট মানুষ গুলোর মধ্যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন চোখে পড়ার মতো,সহজ, সরল চোখের ভাষা আপনি খুব সহজেই অনুমান করে বলতে পারবেন তারা কতটা আন্তরিক।
বিকাল বেলায় আমার চা পর্ব শেষ করার পর রওয়ানা দিতে হলো বাড়ির পথে তবে চলে আসার পরও আমাকে যেন কোন যাদুবলে আবদ্ধ করে রেখেছে চা বাগানের রূপ মাধুর্য।
বারবার গেলেও মনে হবে না এই পথ আমার বহুদিনের চেনা।
আসলেই আমার দেশের সৌন্দর্য বয়ান করে শেষ করা সম্ভবপর নয়, যত দেখি ততই যেন আকৃষ্ট করে বাংলাদেশের রূপ, সৌন্দর্য।
তাই,মুগ্ধ চিত্তে বলছি এমন দেশটি কোথাও তুমি পাবে নাকো খুঁজে,সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি।

আরও পড়ুন

পদত্যাগ করে সংসদকে বিলুপ্ত করুন–সরকারকে মির্জা ফখরুল

লোহাগাড়ায় ইউপি মেম্বার এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি সম্মেলন সম্পন্ন

বাইয়ার পাড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

ঘোড়াঘাটে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১২০০ আসামি

ক্যান্সার সচেতনতায় ক্যাপ ইবি শাখার আলোচনা সভা

স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বামী গ্রেফতার

মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী সুন্নী ইজতেমা

নোয়াখালীতে অভিনেতা কাবিলার শীতবস্ত্র বিতরণ

নওগাঁর পত্নীতলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নাইক্ষ্যংছড়িতে ভিজা পোষাকে স্কুলে যেতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

ঘন কুয়াশায় হিলিতে মরে যাচ্ছে বীজতলার চারা

নোয়াখালীতে পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের শীতবস্ত্র বিতরণ ও প্রীতিভোজ