ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ জানুয়ারী ২০২৩
  1. সর্বশেষ

চাই সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা!

প্রতিবেদক
নিউজ এডিটর
৯ নভেম্বর ২০২২, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

–আহমেদ হানিফ।

সংস্কৃতি মানুষের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করে,মানুষকে সৃজনশীলতার আবেশে প্রাণোচঞ্চল করে তুলে সংস্কৃতি চর্চা।বাঙালির মননে হাজার বছর ধরে নানান আঙ্গিকে লালিত পালিত হচ্ছে সংস্কৃতি।সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে যেমন আমাদের ব্যক্তিত্ববোধ ফুটে উঠে তেমনি ফুটে উঠে আমাদের জাতীয়তাবাদ, সমাজ, সংস্কৃতির রূপবৈচিত্রতা।সংস্কৃতিমনা মানুষই উপলব্ধি করতে পারে সুন্দর,সুস্থ আচার-আচরণ।প্রত্যহ যেমন সূর্যের আলো পৃথিবীর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পৃথিবীকে বর্ণিল করে নানা রূপ-মাধুর্যে,ঠিক তেমনি সংস্কৃতি একটি জাতিকে আলোকিত করতে পারে নানাভাবে।

মানুষের সত্তাকে যদি উপলব্ধি করি তাহলে তার সংস্কৃতির চর্চা কোনো অংশে বাদ দেওয়ার অবকাশ নেই।
রুচিশীল মানুষের সাহচর্যে আসলে যেমন অন্য মানুষের মননে রুচিশীলতা জাগ্রত হয় একই ভাবে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন সাধিত হয়।বইয়ের ভাষায় বলতে গেলে বলতে পারি,”আমরা যা করি তাই সংস্কৃতি” সংস্কৃতির দুইটি রূপ,বস্তুগত ও অবস্তুগত।

তাহলে সহজ ভাষায় বলতে গেলো প্রত্যহ ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত যা করি তাই তো সংস্কৃতি।
তবে,বর্তমানে আমাদের সংস্কৃতি চর্চা অনেকটাই ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়েছে-
বিনোদনের জন্য নানান পদের নানান নামের মাধ্যম,
ইউটিউব, ফেসবুক,টুইটার,টিকটকের মতো মাধ্যম আবার টেলিভিশনের মাধ্যমেও আমরা সাংস্কৃতিক উপাদান গুলো দেখার সুযোগ পাই।

সংস্কৃতি চর্চাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয় কত শত প্রতিষ্ঠান যাদের কল্যাণে ব্যক্তির মনোহরতা প্রকাশ পায়।
বলতে পারি সংস্কৃতি একটা জাতির দর্পন,দর্পনে যেমন আমাদেন চেহারা উন্মোচিত হয় তেমনি একটা জাতির বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য প্রকাশিত হয় সংস্কৃতি দ্বারা।
যতই আমরা সংস্কৃতির বন্দনায় ব্যতিব্যস্ত ততই যেন আমরা হারিয়ে বসেছি আমাদের নিজস্বতা।
আমরা আজ সংস্কৃতি চর্চার নামে কি করছি?
কেন এমন করছি?

এভাবে চললে আমাদের নিজস্বতার কি হবে?
এমন হাজারো প্রশ্নের মাধ্যমে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছি।
উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানতে পারলাম,পরচর্চা ও পরসৌন্দর্যে ব্যাকুল হয়ে হারিয়ে ফেলছি বাঙালি হিসেবে আমাদের নিজস্বতা।

আজ সংস্কৃতি চর্চার নামে কি হচ্ছে আমাদের দেশে,আমরা কি আদো সংস্কৃতিমনা ছিলাম না।
ছিলাম,আমাদের ছিলো হাজার বছরের বাঙালি চেতনাবোধ,ভালোবাসা,সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা।
আজ আমরা ধাবিত হচ্ছি চরম লজ্জায় পড়ার মতো স্থানে,
আমাদেন বর্তমানে সুস্থ সংস্কৃতি ধারা বন্ধ করে নানা অসুস্থ সংস্কৃতিতে নিমজ্জিত হচ্ছি,যার ফলে দেশের যুব সমাজ গ্রহণযোগ্য সুস্থ ধারার বিনোদনকে বর্জন করে বিদেশি অশ্লীল কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছি।
টিকটক নামের প্লাটফর্মে চলছে হরহামেশা অরুচিপূর্ণ,অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বিনোদন প্রচার।ফেসবুকে চলছে নানান রগরগে বস্তুর প্রচার।
আমাদের মিডিয়াতে শিখানো হচ্ছে কিভাবে নারীকে হয়রানি করতে হয়,ছোট ছোট বাচ্চাদের বিনোদনের বালাই না করে চর্চিত হচ্ছে অবাধ মেলামেশার মতো রগরগে উপস্থাপনা।

দেশকে উপস্থাপনের নামে চলছে কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতির চর্চা।
যার ফলে আমরা নিউজ মিডিয়ায় দেখতে পাই নানা চমকপ্রদ খবরের শিরোনাম।
স্কুলের আঙিনায় চলছে অবাধে টিকটিক,শিক্ষিকার টিকটকে সরব উপস্থিতি।

এইসব নিয়মিত চলছে চলতে আমাদের মমনে সুস্থ চর্চা লোপ পেয়েছে,আমরা এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কুরুচিপূর্ণ গান বাজিয়ে জাতীয় দিবস সমূহ উদযাপন করি,আমরা জানি না আমাদের সুস্থ ধারার বিনোদন মাধ্যম কি।
এইসব অসুস্থ সংস্কৃতি চর্চা দেখতে দেখতে আমাদের নৈতিকতা আজ অনেকটাই লোপ পেয়েছে,ইভটিজিং,বিকৃত যৌনাচার গ্রাস করে ফেলেছে আমাদের মানসকে।

আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ধাবিত করছি এই সব বিকৃত সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে।
আমরা মানুষ আমাদের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয় তাই আমরা চেষ্টা করবো সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই যেন আমাদেন ব্যক্তিত্ব বিকশিত হউক।
মেধা,বিচার বুদ্ধিতার মাধ্যমে সাজাতে পারি সুন্দর জীবন ব্যবস্থা।সুস্থ ধারার সংস্কৃতির মাধ্যমে আমাদের মনন হবে সুন্দর ও পরিশুদ্ধ।
আমাদের আগামী প্রজন্মকে সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে চাইলে আমাদের উচিত অরুচিকর,অশ্লীল সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ করতে হবে।

সৃজনশীলতা হতে হবে স্বচ্ছ ও নির্মল।
সংস্কৃতি চর্চায় আমাদের অশ্লীলতা ও নৈতিকতা বিবর্জিত কোনো কাজ করা যাবে না।
সুন্দর মন ও সুন্দর বিনোদন পাওয়ার জন্য আমাদের সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে।
সবিশেষ বলতে পারি,
সৃজনশীল জাতি ও আমাদের হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে।
সংস্কৃতি একটা জাতির মানুষকে খারাপে নিমজ্জিত করতে পারে তাই সুন্দর আগামী বির্নিমাণ করতে চাইলে সংস্কৃতি হতে হবে সর্বজন গ্রহণযোগ্য।

পরিশেষে বলতে চাই,
আমাদের মানসিক পরিবর্তন ও সুন্দর আগামী তৈরি ও সুস্থ ধারার বিনোদন লাভ করতে হলে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ করতে হবে।
আমরা চাইবো সুস্থ সংস্কৃতির মাধ্যমে ছড়িকে পড়ুক আমাদের সৃজনশীল কর্মকান্ড।
তাই,চাইবো সুস্থ সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ুক প্রত্যেক মানুষের মননে,তবেই পাবো সুন্দর,নির্মল সংস্কৃতি চর্চা।

আরও পড়ুন

২০ টাকার ইনজেকশন হাজার টাকায় বিক্রি: ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

নোয়াখালীতে সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসিক ফ্ল্যাটের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিরামপুরে বিএনপি’র উদ্যোগে কম্বল ও সোয়েটার বিতরণ

নওগাঁর পত্নীতলায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন ডিসি

সম্পাদক ও কলামিস্ট জব্বার হোসেনের জন্মদিন

মৌলভীবাজারে ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম (সিএমএফ) এর উদ্যোগে শীত বস্ত্র বিতরণ

দোয়ারাবাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ৬

পাহাড়ের তিন জেলায় এলজিইডি'র মানব বন্ধন ;
চসিক প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলীর ওপর হামলার নিন্দা, প্রতিবাদ

দূ্র্গম পার্বত্য চট্টগ্রাম’র দুর্গম দুমদুম্যা এলাকায় সীমান্ত সড়ক প্রকল্প পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান

কুতুবদিয়ায় মিয়ার পাড়া নতুন কবরস্থানের জায়গা বিক্রির পায়তারা

ঘোড়াঘাটে এমপি শিবলি সাদিকের পক্ষে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থরা পেল টিন ও চেকসহ বিভিন্ন সামগ্রী

ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন