ঢাকাসোমবার , ১৫ অগাস্ট ২০২২
  1. সর্বশেষ
  2. বিশেষ সংবাদ
  3. সারা বাংলা

শিক্ষাঙ্গনে হত্যা, ধর্ষণ; নৈতিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন
৩ জুলাই ২০২২, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত নৈতিক অবক্ষয় সর্বশেষ পর্যায়ে পৌঁছালে পরে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের গায়ে হাত ওঠাতে পারে। আর সামাজিক অবক্ষয়ের সর্বশেষ পর্যায়ে পৌঁছালে পরে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে। সাভারের আশুলিয়ায় কথিত শিক্ষার্থী জিতু কর্তৃক শিক্ষক উৎফল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা কেবল জিতুদের নৈতিক অবক্ষয় নয়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে নৈতিকতা ক্ষয়ে যাওয়ার বহিঃপ্রকাশ।

আধুনিকতার নামে নগ্নতা, বেহায়াপনা, যৌনতা ও নোংরামির ছড়াছড়ি অনলাইন ইন্টারনেটের হাত ধরে বেড়ে ওঠা; টিকটকার, ইউটিউবার, সেলেব্রিটি হবার স্বপ্নবুনা নৈতিক অন্তঃসারশূন্য নতুন প্রজন্ম থেকে এরচেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু ভিন্ন ভালো কিছু আশা করা বোকামি বৈকি! শিক্ষার্থীদের যেভাবেই গড়া তোলা হবে, তারা সেভাবেই গড়ে ওঠবে। যে পরিবেশে বড় হবে, তেমনভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে তাদের।

আমাদের এক শিক্ষক বলতেন, শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা ভেজা মাটির ন্যায়। যে মাটি দিয়ে কুমারেরা বিভিন্ন সৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করে। মাটিকে যেভাবেই ইচ্ছে শিল্পীরা বিভিন্ন দ্রব্যের রূপ দিতে পারে। কিন্তু সেই মাটি যখন আগুনে পুড়ে শক্ত করা হয় তখন আর পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থীরাও অনুরূপ ভেজা মাটির ন্যায়। শিক্ষকেরা যেভাবেই ইচ্ছে গড়ে তুলতে পারেন। তবে বড় হয়ে গেলে আর সম্ভব নয়। কিন্তু অতি পরিতাপের বিষয় হলো – শিক্ষকদের হাতে ভেজা মাটির ন্যায় কচিকাঁচা শিশুদের তুলে দেয়া হয়েছে কিন্তু কোন প্যাটার্নে গড়ে তুলবে সেই স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। সেই স্বাধীনতা এখন শিক্ষার্থীদের হাতে কিংবা প্রশাসনের হাতে। বিষয়টি এমন যেন মাটি থেকে জিজ্ঞেস করেই শিল্পীরা রং তুলবে। মাটি যেমনটা হতে চায় শিল্পী তেমনটাই করবে।

শিক্ষাঙ্গন আজ নৈতিকতা শূণ্য। যেখান থেকে পুঁথিগত বিদ্যার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা সম্পন্ন এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত একজন মানুষ হবার কথা সেখানে একজন মাস্তানে পরিণত হচ্ছে। যেখান থেকে একজন গুণী মানুষ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক হয়ে বের হবার কথা, সেখানে একজন খুনি, ধর্ষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। তার জন্য দায়ি এদেশের শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ, সংস্কৃতি, শাসনব্যবস্থা এবং শিক্ষাব্যবস্থা।

শিক্ষাঙ্গন এখন অপরাজনীতির দখলে। অপসংস্কৃতির রাজত্ব চলছে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। বিদেশি সংস্কৃতি থেকে তারা শিখছে ছেলেমেয়েরা নিজেদের ইচ্ছেমতো কীভাবে মেলামেশা করতে হয় তা। বিদেশি নাটক সিনেমা থেকে তারা শিখছে তাদের পথের কাঁটা স্বরূপ তাদের প্রেম ভালোবাসার বিরুদ্ধে থাকা ব্যক্তিকে কীভাবে সরাতে হয় তা। আর অপরাজনীতি থেকে তারা শিখছে কী করে দাপুটে শক্তি প্রয়োগ করতে হয় তা। আশুলিয়ায় জিতু কর্তৃক শিক্ষক উৎফল কুমার সরকার হত্যা তারই নমুনা ছাড়া কিছু নয়।

নৈতিক অবক্ষয় এবং শিক্ষার্থীদের অস্বাভাবিক আচরণের আরও কিছু কারণ আছে বলে মনে করি। শিক্ষার্থীদের শাসনের ভার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যার কারণে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী নির্যাতনের কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার সুযোগ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে। ফলে তারা স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে।

অন্যদিকে আমাদের দেশের কথিত বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদেরা যখন সরাসরি বলে তোমরা প্রেম করো তখন শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা অধিকার করে নেয়। সেই স্বাধীনতা নোংরামি করার স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতা নৈতিকতা বিসর্জন দেয়ার স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতা যেমন ইচ্ছে তেমন করার স্বাধীনতা। এমন স্বাধীনতা থেকেই আজ তারা ধর্ষক, মাস্তান, খুনি। তাদের গুরুদের কথামতো প্রেম ভালোবাসা থেকেই অপকর্ম ও অপরাধের বাম্পার ফলন হচ্ছে। বেড়েই চলেছে, ইভটিজিং, র‍্যাপ খুন।

দিহান আনুশকার কথা নিশ্চয় মনে আছে। গত বছরের ঘটনা। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী, বড় লোকের ছেলে দিহান তার কথিত প্রেমিক বান্ধবীকে খালি বাসায় তুলে পর্নোগ্রাফি স্টাইলে মেলামেশা করে নিজের বাসনা পূরণ করতে গিয়ে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছিল। আর এখন প্রেমের বাধা দেওয়ায় সিনেমার নায়কের স্টাইলে শিক্ষককে খুন করা হয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনে ধর্মীয় পরিবেশ কিংবা ভালো কোনো কাজ ঘটতে দেখলে এদেশের একদল বুদ্ধিজীবীর চোখ চুলকাতে শুরু করে। হায়, হায়! গেল, গেল! রব তুলে। গেল, গেল, রসাতলে গেল বলে তখন তারা সেখানে জঙ্গিবাদ আর উগ্রবাদের গন্ধ খুঁজে। কিন্তু যখন পর্নোগ্রাফিক স্টাইলে র‍্যাপ করতে গিয়ে ছাত্রী হত্যা কিংবা প্রেমের কাঁটা সরাতে গিয়ে শিক্ষক হত্যার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটায় তখন তারা একবারও বলে না গেল, গেল! করে না হাহুতাশ। কেবল ঘটনার পেছনে কারণ খুঁজে বেড়ায়। এমন ন্যক্কারজনক, হতাশাজনক ঘটনা যাদের আশকারা পেয়ে ঘটে তারা যখন তাদের পেছনে কে আছে খুঁজে বেড়ায় তখন নিজের ছায়া ভিন্ন কিছুই ধরা পড়বে না।

শিক্ষাঙ্গনকে অপসংস্কৃতি ও অপরাজনীতির থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে। পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি একজন সৎ, দেশপ্রেমিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নইলে সেখান থেকে দিহাম জিতুরাই জন্ম নেবে। জন্ম নেবে পিটিয়ে সহপাঠী মারা, পুড়িয়ে মারা মানুষ মারার খুনিরা। এবং তাদের অপকর্মে পিষ্ট হয়ে অকালে বিদায় নেবে আনুশকা, তনু, নুসরাত, উৎফল কুমার ও আবরারেরা।

লেখকঃ গল্পকার
নামঃ মুহাম্মদ রমিজ উদ্দিন,
Email- ramizu127@gmail.com

আরও পড়ুন

কাপাসিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জাতীয় শোক দিবস পালন

এ‌শিয়া কা‌পে ও‌পেন কর‌‌বেন সা‌কিব-মুশ‌ফিক

ফটিকছড়িতে চুরির অপবাদ দিয়ে যুবলীগ নেতার মারধর, অপমানে ফার্নিচার মিস্ত্রির আত্মহত্যা

নাগরপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আয়োজনে শোক দিবস পালিত

কাপাসিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালিত

নাগরপুর উপজেলা আ.লীগের শোক দিবস পালন

ফতুল্লার কাশীপুরে জাতীয় শোকদিবস পালিত

জাতীয় শোক দিবস ও ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

লোহাগাড়ায় পুকুরে ভেসে ওঠলো দুই শিশুর মৃতদেহ, এলাকায় শোকের ছায়া

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ধলঘাটাতে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মহাত্মা অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাস থেকে শোক র‍্যালি অনুষ্ঠিত।

জাতীয় শোক দিবস নিয়ে মণিপুরি মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভাবনা